স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে থানার পাশেই নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে কলেজছাত্রীর আত্মহননের ঘটনায় পুলিশের কোন গাফিলতি খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপির) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কলেজছাত্রী লিজা রহমান তার স্বামীর দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিযোগ করতে এসেছিলেন শাহমখদুম থানায়। কিন্তু এটি কোন ফৌজদারি অপরাধ না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। পরে লিজাকে দুই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।
কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে এসেই লিজা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনাটি শাহমখদুম থানার ওসি হিসেবে রেকর্ড রাখেননি। তাই তাকে কৈফিয়ৎ তলবের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়ে এই সুপারিশ করেছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর লিজা গায়ে আগুন দেন। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ওইদিনই ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা। এরপর বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান লিজা। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা।
এ নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে লিজার বাবা শাহমখদুম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় লিজার স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে তার রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়েছে।