স্টাফ রিপোর্টার: নারী মানেই শক্তি, নারী মানেই প্রেরণা। নারীত্বের এই জয়ধ্বনি ফুটে উঠেছে রাজশাহীর কুমারী পূজায়। রোববার এই পূজা উপলক্ষে নারীর বন্দনায় মুখর ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কুমারী দেবীকে বরণ করে শ্রদ্ধাও নিবেদন করেছেন তারা।
শারদীয় দুর্গোৎসবে মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী দেবীকে দেখার জন্য সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় দেখা যায় নগরীর সাগরপাড়া এলাকার ত্রিনয়নী মÐপে। বেলা ১১টায় অষ্টমী পূজার পরেই শুরু হয় কুমারী পূজা। এবার কুমারী দেবী রূপে সাজেন ১১ বছর বয়সী ঐন্দ্রিলা সরকার। বেলা ১২টার পরেই তাকে দেবীর আসনে বসানো হয়। লাল টুকটুকে বেনারসী শাড়ি পরে তিনি বসেন দেবীর আসনে।
এরপর থেকেই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই তার নামকরণ করা হয়। এবার ঐন্দ্রিলার নামকরণ করা হয় রুন্দ্রাণী। এরপর গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাকে পরিপূর্ণ শুদ্ধ করে তোলা হয়। এরপর কুমারী দেবীর চরণযুগল ধুয়ে তাকে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। অর্ঘ্যর শঙ্খপাত্র সাজানো হয়েছিলো গঙ্গাজল, বেলপাতা, আতপচাল, চন্দন, পুষ্প ও দুর্বাঘাস দিয়ে। সকাল থেকেই ত্রিনয়নীতে কুমারী মেয়েদের ভিড় বাড়ে।
পূজা অর্চনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। পরে তিথি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় পূজা শুরু হয়। পূজা করান পুরোহিত দেবব্রত চত্রæবর্তী। অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস দিয়ে হয় কুমারী মায়ের পূজা। অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমালা। পূজা শেষে প্রধান পূজারী দেবীর আরতি দেন এবং প্রমাণ করেন। সবশেষে পূজার মন্ত্র পাঠ করে ভক্তদের চরণামৃত্র বিতরণের মধ্যে দিয়ে পূজা শেষ হয়।
পুরোহিত দেবব্রত চত্রæবর্তী বলেন, প্রতিটি মেয়ের মধ্যেই দেবী দূর্গার একেকটি রূপ বিরাজ করে। পূজা করা হয় অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এই সংকল্প থেকেই পূজা করা হয়। তাই সংকল্প পূরণ করার জন্যই কুমারী পূজা করা হয়।
ত্রিনয়নী মন্দিরে গত ১৫ বছর ধরেই কুমারী পূজা হয়ে আসছে। তবে ঐন্দ্রিলা সরকার বেশ কয়েকবার ধরেই কুমারী দেবী রূপে সাজেন। গতবার তার নামকরণ হয়েছিলো অপরাজিতা। ঐন্দ্রিলা নগরীর শহিদ নজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম মনোজ সরকার আর মায়ের নাম শ্বাশতী সরকার।
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পূজা মÐপ ঘুরে দেখা যায়, ভক্তদের ঢল। চÐীপাঠ, উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর, ঢাকের বোলে মুখর পূজামÐপগুলো। চোখে পড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। মহাঅষ্টমী উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় পূজামÐপগুলোতে ছিল আরতি, ভক্তিমূলক সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
আজ সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, রামচন্দ্র, রাবণ বধের পর নবমী তিথিতে ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। সেই রীতি অনুসারে মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে দুর্গাকে পূজা দেয়া হয়। ধর্ম প্রতিষ্ঠায় দুর্গতিনাশিনীর কাছে প্রার্থনা করেন ভক্তরা। মঙ্গলবার মহাদশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।