নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া ও রাজাপুরে পৃথক দুটি ক্লিনিকে অদক্ষ চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসন বনপাড়া হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছে। এছাড়া রাজাপুরের সৌরভ ক্লিনিকে তালা দিয়ে মালিক ও স্টাফরা পালিয়ে গেছে।
সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বনপাড়া হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে উপজেলার তালশো গ্রামের রাহাবুল ইসলামের নববিবাহিতা মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের (১৮) অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন করা হয়। কোন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া ইন্টার্ন ডা. সামিরা তাবাসসুম সাথীর তত্ত¡াবধানে অপারেশনটি করা হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান। পরে রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে তাকে চিকিৎসক ইনজেকশন পুশ করেন। এর ঘণ্টাখানেক পর সুমাইয়া মারা যায়। এরপর থেকে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের মালিক পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তা সিলগালা করার নির্দেশ দেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর রশিদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মৃতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, শনিবার বিকেলে উপজেলার রাজাপুর সৌরভ ক্লিনিকে পাবনা জেলার ঈশ^রদী উপজেলার মুলাডুলি রহিমপুর গ্রামের খলিল সরদারের স্ত্রী নীলা বেগমের (৫৮) অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন করা হয়। হাসপাতালের মালিক মুলাডুলি এলাকার ফকির শেখের ছেলে গ্রাম ডাক্তার উমেদ আলী অপারেশনটি করেন। কিছু সময় পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাতে তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে তাকে অন্যত্র নিতে বলেন। স্বজনরা রোগী নিয়ে চলে গেলে ক্লিনিক মালিক সবাইকে বের করে দিয়ে গেটে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা এসে হাসপাতালটি ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে ইউএনও আনোয়ার পারভেজ জানান, বনপাড়ার হেলথ কেয়ার হাসপাতালের কোন কাগজপত্র ঠিক নেই। আবাসিক মেডিকেল অফিসার নেই। সেই সাথে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি যথার্থ না থাকায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। অপর ঘটনাটি নিয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে। বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ অফিসার নজমুল হক বলেন, লাশটি উদ্ধার করে নাটোর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামের রাজপুর সৌরভ নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে অ্যাপেনডিসাইটের রোগী নীলার ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এসে রোগীর লোকজন ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল, জানালা ও কাঁচ ভাঙচুর করে। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বনপাড়ার ঘটনায় ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। অপর ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে খবর নেয়ার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।