স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে এক তরুণীর সাথে জোরপূর্বক অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে পুঠিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এরা হলেন, পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেল রাকিবুল হাসান রকি (১৮), বাড়ইপাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম তন্ময় (১৮), সরদারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এসএম হাসিবুল হাসান (১৮)।
পুলিশের দাবি, এরা কিশোর গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত। এদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে নিজের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শহিদুল্লাহ এ দাবি করেন। তিনি বলেন, জেলায় সম্প্রতি কিশোর গ্যাং কালচার শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে গোদাগাড়ীতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও করে টাকা আদায়ের চেষ্টায় এদেরকেও গ্রেপ্তার করা হলো।
এসপি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামীম ও বাবু নামের দুই বন্ধু পুঠিয়া উপজেলা গাওপাড়া ঢালানের একটি কালভার্টে বসে গল্প করছিলেন। এসময় রকি, তন্ময়, হাসিবুলসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে শামীম ও বাবুকে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
এরপর শামীমকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে ঢুকিয়ে জোরপূর্বক এক তরুণীর সাথে ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণ শেষে শামীমের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না দিলে পুলিশ ও পরিবারের কাছে ভিডিও দেখাবে বলে হুমকি দেয় তারা।
পরে কৌশলে শামীম সেই পরিত্যক্ত ভবন থেকে পালিয়ে এসে পুঠিয়া থানায় অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পর পুলিশ তাদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাদের ধরতেও অভিযান চলছে বলেও জানান এসপি।
প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী, জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।