সোনালী ডেস্ক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চারঘাটে পদ্মানদীর পানি কমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে গোদাগাড়ীতে পদ্মার ভাঙন বেড়েছে। চারঘাটে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পদ্মানদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে করে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, বন্যায় উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের হাতনাবাদ, গোগ্রাম ইউনিয়নের আলীপুর, নিমতলা ও চরআষারিয়াদহ ইউনিয়নের হুমমন্তনগর, চর নওশেরা, আমতলা খাসমহল, বারিনগরসহ ১২টি গ্রাম প্লবিত হয়। নিচু এলাকার বাড়ি-ঘর ও টমেটো, মাষকলাই, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বলেন, শনিবার থেকে পদ্মানদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিত উন্নতি ঘটেছে। তবে চরবয়ারমারী এলাকায় প্রায় ১ কিলো মিটার নদীর তীর ভাঙছে। এরমধ্যে ৭৬টি বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর ভাঙনের মুখে থাকা দিয়াড় মানিক চক বোয়ালমালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুই শ বাড়ি-ঘর যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে রোববার সকাল ১০টার দিকে বন্যার্ত ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার এবং ঢেউটিনসহ নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬টি পরিবারকে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন ও ৬ হাজার টাকা দেয়া হয়। ২০০ বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আকতার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ও সুফিয়া খাতুন মিলি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা আবু বাসির প্রমুখ।
চারঘাট প্রতিনিধি জানান, চারঘাটে বন্যার আতক্সক কেটে গেলেও কাটেনি ভাঙন আতক্সক। গত সাত দিনে চারঘাটে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ বন্যা আতক্সেক ভুগছিল। কিন্তু গত দুই দিনে নদীর পানি কমতে থাকায় নদী তীরবর্তী মানুষের বন্যা আতক্সক কেটে গেলেও ভাঙন আতক্সক এখনও কাটেনি। নদী ভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী বাঁধগুলো প্রতিনিয়ত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রোববার চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকায় নদী ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলতে দেখা যায়। ওই সময় রাওথা এলাকার সাহাবুল ও আলম হোসেনের সাথে কথা বললে তারা জানান, কয়েক আতক্সিকত ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে সেই আতক্সক কেটে গেছে। এখন ভয় শুধু নদী ভাঙনের।
এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম শামীম আহমেদ বলেন, আমরা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এই নদী ভাঙন ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নদীর পানি দ্রæত কমে যাওয়ায় যদি নদী ভাঙন দেখা দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সময়াপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম বলেন, এরমধ্যে নদী ভাঙন ঠেকাতে গত দুই দিনে রাওথাসহ যে সকল এলাকায় ভাঙনের আশক্সকা আছে, সেই সকল এলাকায় ১ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোববার দুপুর পর্যন্ত পদ্মানদীর পানি ২৩ সে.মি. কমে গেছে। এতে করে বন্যার আশক্সকা নেই বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে নদী ভাঙন ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি জানান।