স্টাফ রিপোর্টার : এক সময় কোনো রকমে সংসার চলতো শীষ মোহাম্মদের। তখন বাড়ি ছিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গম চর আলাতুলিতে। কিন্তু দশ বছরের মধ্যেই তার অবস্থা বদলে যায়। হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের গডফাদার। বিলাশবহুল বাড়ি করেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার গড়ের মাঠ এলাকায়। শীষ মোহাম্মদের নামে বেনামে এখন অঢেল সম্পদ।
এই শীষ মোহাম্মদকে (৩৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫০০ গ্রাম হেরোইন, ছয় রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন এবং দেড় হাজার পিস ইয়াবা বড়ি। পিস্তলটি ছিলো একটি বালিশের ভেতর। গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গোদাগাড়ীর বিজয়নগর মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল।
শীষ মোহাম্মদ সম্প্রতি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে গত ১ অক্টোবর সোনালী সংবাদে প্রধান খবর ছাপা হয়। এরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলো। তার কাছে মিললো অস্ত্র এবং মাদকও।
পুলিশ জানিয়েছে, গোদাগাড়ী থানা পুলিশের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা রয়েছে সেখানে শীষ মোহাম্মদের নাম এক নম্বরে। তার বাবার নাম ইসরাইল হক। শীষ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকের চারটি মামলা ছিলো। এর আগে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ২০০ গ্রাম হেরোইনসহ শীষ মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তালিকার দুই নম্বরে থাকা মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমও। জব্দ করা হয়েছিল একটি প্রাইভেট কার।
এর আগে, ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি বিদেশি পিস্তুল ও ২০০ গ্রাম হেরোইনসহ গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ি এলাকায় শীষ মোহাম্মদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রতিবারই গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কিছু দিন কারাভোগ করেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি জামিনে বেরিয়ে আবার হেরোইন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন হেরোইন মাফিয়া। রাজশাহীর নগর ভবনের পাশে পাঁচতলা একটি বাড়ি করেছেন তিনি। পাশেই একজন সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন রাজশাহীর সর্বাধুনিক একটি শপিং কমপ্লেক্সে দুটি দোকানও কিনেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীষ মোহাম্মদের বাবা ইসরাইল হোসেন বিএনপি করতেন। শীষ মোহাম্মদও এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এখন সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন। ২০১৫ সালের আগস্টে শীষ মোহাম্মদ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোদাগাড়ী এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়েছিলেন। পোস্টারের নিচের অংশে ছিলো তার নাম। নামের নিচে লেখা ছিলো ‘রাজশাহী মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।’ তবে শীষ মোহাম্মদ নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন পদে ছিলেন তা লেখা ছিলো না।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, শীষ মোহাম্মদকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।