স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় নির্বাচনের এই ফল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন নাইস কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন ১১১ জন। নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন তিন হাজার ৪২০ জন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ১ হাজার ৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী রফিকুল ইসলাম রফিক পেয়েছেন ৮৩২ ভোট। আর সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন রবি ৪২৬ ভোট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়। আর সম্পাদক পদে মাহাতাব হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী সাইরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮১৫ ভোট।
আরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন, সহ-সভাপতি পদে মুকুল আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. গাজি, কোষাধ্যক্ষ পদে জহুরুল ইসলাম জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. ফেরদৌস, দপ্তর সম্পাদক পরিমল দাস, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে শংকর কুমার তরফদার, সাংস্কৃতিক-ক্রীড়া ও প্রচার সম্পাদক পদে গোলাম আজম জুলমত এবং সড়ক সম্পাদক পদে আবুল কালাম আজাদ।
এছাড়া ভোটে কার্যকরী সদস্য পদে প্রাপ্ত ভোটে সেলিম হোসেন প্রথম, পারভেজ আলী দ্বিতীয়, সজিব আহম্মদ তৃতীয়, শাহীন রেজা চতুর্থ, সুমন আলী পঞ্চম এবং মামুন হোসেন ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ২০১৭ সালের ২৪ মে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেদিন ভোট গণনা শেষ হলেই বহিরাগত একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনারদেরও।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এরপর ২১ সদস্যের একটি আহŸায়ক কমিটি দিয়েই চলছিল মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। অবশেষে গত ২২ জুন রাজশাহী এসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। গঠন করা হয় নতুন একটি আহŸায়ক কমিটিও। তিন মাসের মাথায় সেই কমিটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করলো।
এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণকালেও কেন্দ্রের বাইরে দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এক প্রার্থীসহ অন্তত সাতজন আহত হন। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রবিউল হক কাকর বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটু মারামারির ঘটনা ঘটলেও সেটা কেন্দ্রের বাইরে। কেন্দ্রের ভেতরে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। ভোটের ফল নিয়েও কোনো প্রার্থীর অভিযোগ নেই।