এফএনএস: অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানের দখলে থাকা ভুলতা-গোলাকান্দাইল চারতলা বিশিষ্ট ফ্লাইওভারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশের সড়ক ও জনপথের (সওজ) জমি দখলমুক্ত করেছে প্রশাসন।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ফারুকীর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। দুপুর ১টার দিকে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং লিমিটেডের দখলে থাকা ১৫ শতাংশ জমির পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের সহায়তায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা আরও কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) তরিকুল ইসলাম, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন শামীম ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ফারুকী বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এর আগে, গত সোমবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩৩২ ফ্লাইটটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর সেলিম প্রধানের মালিকানাধীন জাপান -বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং লিমিটেডের অবৈধ দখলে সওজের ১৫ শতাংশ জমিতে পাকা স্থাপনার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি জমি দখলের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে পড়ে।
গতকাল শনিবার সকালে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জানা যায়, ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকা দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কটি অতিক্রম করেছে। এই এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাটবাজার থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষের চলাফেরা।
প্রতিদিনই এই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের চারতলা ফ্লাইওভারটির কাজ সম্পন্ন হলেও সওজের ১৫ শতাংশ জমি ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধানের দখলে থাকায় সেতুর কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বার বার ওই জমিতে থাকা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলেও বিশেষ ফোনের কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে যায়।
র‌্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সেলিম প্রধান বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা। সেলিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার গুলাশান-২-এর ১১/১ এ রোডে ও বনানীর অফিসে অভিযান চালিয়ে ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল, নগদ ২৯ লাখ ৫ হাজার টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা (যার মূল্য আনুমানিক ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, ১২টি পাসপোর্ট ও ১২টি ব্যাংকের চেকবই, একটি বড় সার্ভার ও চারটি ল্যাপটপ ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান থানায় মাদক আইনে করা মামলায় সেলিম প্রধানসহ তার দুই সহযোগীর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।