স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান সংলগ্ন নাইস কমিউনিটি সেন্টারে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টার দিকে ভোটকেন্দ্রের সামনের সড়কে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী সাইরুল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। এই সংঘর্ষ এবং লাঠিপেটায় সাইরুলসহ সাতজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের বাইরের পাকা রাস্তায় সাইরুলের অনুসারিরা মিছিল বের করেন। এই মিছিলের ভেতর থেকে একজন আবদুল লতিফ নামে এক শ্রমিককে ধাক্কা দেয়। লতিফ এর প্রতিবাদ করলে মিছিলে থাকা অন্যরা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লতিফকে মারধর করা হয়। তখন লতিফকে বাঁচাতে অন্য শ্রমিকরা এগিয়ে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে শ্রমিকরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এ সময় প্রার্থী সাইরুলও সংঘর্ষের স্থানে গেলে শ্রমিকরা তাকেও পেটান।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর সাতজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রায় সবার শরীরে জখম রয়েছে। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটগ্রহণের সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত হলেও যারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে গেছেন তাদের ভোট নির্ধারিত সময় পরেও গ্রহণ করা হচ্ছিল। তবে নতুন করে আর কোনো শ্রমিককে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীরা অবস্থান করছিলেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আগে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা করাতে বলেছি। তিনি জানান, কীভাবে সংঘর্ষ বেঁধেছে এবং কে কার ওপর হামলা করেছে এগুলোর প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক এই নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন ১১১ জন। এই নির্বাচনের মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৪২০ জন।