স্টাফ রিপোর্টার: গত ২০ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির পর গতকাল শুক্রবার থেকে রাজশাহীতে পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পানি এখন কমতে শুরু করায় পদ্মাপাড়ের পানিবন্দি দুর্গত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন উপজেলার দুর্গত পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল থেকে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মাপাড়ের মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা, গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ারচর, চরখানপুর, নবগঙ্গা, সোনাইকান্দি, বেরপাড়া, চারঘাট এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নিচু এলাকার বাড়িঘরসহ খেতের ফসলের মধ্যে মাসকলাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন চরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রয়েছে। মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে জরুরিভাবে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।
গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু করায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, খেতের ফসল নস্ট হয়েছে পানি নেমে গেলে সেই পরিবারগুলোকে জরুরিভাবে পুনর্বাসনের আওতায় আনার দাবি সচেতন মহলের।
এদিকে গতকাল শুক্রবার পবা উপজেলার হরিয়ান ও হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মাপড়ের পানিবন্দি ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিদিরপুর ও খানপুর চরের ৩৬৫ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ করেন পবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন হরিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু, হরিয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইয়াছিন আলী, সাধারণ সম্পাদক জেবর আলী, ইউপি সদস্য কহিনূর বেগম, রেশমা বেগম, আক্কাস আলী, রতন ইসলাম, গোলাম মোস্তফা।
এদিকে হরিপুর ইউনিয়নের ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বশড়ী, হাড়–পুর, সোনাইকান্দি ও বেড়পাড়া গ্রামের একশ’ বাড়ি ডুবে গেছে। এদের মধ্যে ৩৫ টি পরিবারে গতকাল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান নবাব, ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান, মুসফিকুর রহমান প্রমুখ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার বানভাসি পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রানসামগ্রী ও চাল বিতরণ অব্যাহত আছে। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলাই। দুর্গত পরিবারগুলোকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের আওতায় নেয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গতকাল শুক্রবার থেকে এই পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে ১৮ দশমিক ১৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৯ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।