তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী নগরীর আধিকাংশ নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণেই এ জলাবদ্ধতা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার। বিশেষ করে ড্রেন না থাকায় এবং বর্ষণের পানি যাবার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এরফলে ঐসব এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে ।
ইতোমধ্যে বন্যার পানি পদ্মা নদী এখনও কাণায় কাণায় ভরা। শুধু পদ্মা নয় আশপাশের নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এক দিকে বন্যার পানি অপর দিকে বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা চরম কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। আর যে সব ড্রেন দিয়ে নগরীর পানি নদীতে গিয়ে পড়তো বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় তা আর যেতে পারছে না। এর ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা প্রকটাকার ধারণ করেছে।
নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান। সেখানকার পুকুরগুলো বৃষ্টির পানিতে ভর্তি হয়ে উপচে গিয়ে রাস্তার ওপর বয়ে যাচ্ছে। এতে পার্কের রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় উদ্যানের জনৈক কর্মচারি বলেন, পুলিশ লাইনের জমে থাকা পানি পদ্মা নদীতে নামতে না পেরে কেন্দ্রীয় উদ্যানের দিকে এসে জমা হচ্ছে এবং পার্কে নভোথিয়েটার ভবন নির্মাণ কাজ চলায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে তা দিয়ে পানি নামতে না পেরে কেন্দ্রীয় উদ্যানের মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী কোর্ট চত্বরের রাস্তার ওপর দীর্ঘ দিন ধরে পানি জমে থাকলেও তা নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় কোর্টে আসা সাধারণ মানূষকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নগরীর ১ নং ওয়ার্ডের গুড়িপাড়ার কিছু কিছু এলাকা,২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া ও তার আশপাশ এলাকা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডিঙ্গাডোবা ও বহরমপুর এলাকা, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেরখাদিয়া মধ্যপাড়া, উত্তরপাড়া, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিল্পীপাড়া, কয়েরদাড়া, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়ালিপাড়া, পশ্চিম নওদাপাড়াসহ আশপাশ এলাকা, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচন্ডির দক্ষিণপাড়ায় এখনও হাটু পানি। বুধপাড়া, মিজানের মোড়, কাজলা এলাকায়ও জলাবদ্ধতা এখন প্রকট। নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার পার্শ্ববর্তী মহল্লায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বোসপাড়া, টিকাপাড়া, আহম্মদপুর রাস্তায় পানি জমে আছে। এসব এলাকার খানা-খন্দক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতায় মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
এবার দেরিতে বন্যার সাথে কয়েক দিন লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ জলাবদ্ধা দীর্ঘস্থা দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে বলে ভুক্তভোগিদের ধারণা।