সোনালী ডেস্ক: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় পদ্মানদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বন্যাকবলিত চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের অভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
চারঘাট প্রতিনিধি জানান, গত ৫ দিনের বন্যার পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পদ্মানদীর তীরবর্তী এলাকা সাহাপুর, ইউসুফপুর, গৌরশহরপুর, পিরোজপুর, রাওথা গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এলাকাবাসীর মনে এখনও চরম আতংক রয়েছে। অনেকে রাত জেগে নদী তীরবর্তী বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন যেন তা কেটে দিতে না পারে। এদিকে রাওথা এলাকায় একটি মসসিদ ও কয়েকটি বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে এমন চিত্র সরজমিনে দেখে গেছে। এদিকে বন্যায় উপজেলার পদ্মার চরের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ একর জমির ফসল যেমন, মাসকলাই, আখ, বাদাম ও সবজিফসল। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্জুর রহমান বলেন, আমাদের তথ্যমতে, সাহাপুর, ইউসুফপুর ও রাওথা এলাকায় পদ্মার চরে ১২ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ করা হয়েছিল যা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম শামীম আহমেদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নজর রেখেছি। আমাদের কোথাও এখনও প্লাবিত হয়নি। তবে এখনও আশংকামুক্ত নয়। এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিদুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে আমরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহারিয়ার আলমের নির্দেশনায় চারঘাট-বাঘায় নদী ভাঙন এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোন ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিতভাবে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এছাড়া সাহাপুর, টাঙন ও রাওথা এলাকায় আগামি শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর, পাকুড়িয়া ও গড়গড়ি ইউনিয়নে ফসলি জমির শতকরা ৭৫ ভাগ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পদ্মানদীর পানি ঠেকাতে উল্লেখিত এলাকায় বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাঘাবাঁধের একাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেল শুধু এই ৩ ইউনিয়ন নয় সমগ্র বাঘা পৌর শহরসহ অন্য সব ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়বে। পদ্মানদীর পানিতে চকরাজাপুর, পাকুড়িয়া ও গড়গড়ি ইউনিয়নের শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে ৭৫ ভাগ ফসলি জমিই বন্যাকবলিত। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে তাদের মাঠে সবজি, কলাই, ধান এবং অন্যান্য ফসল ডুবে গেছে। এতে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ঘর-বাড়িসহ কয়েক হাজার আবাদি-অনাবাদি জমি ও গাছ-পালা। ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। পানিবন্দি হয়ে মানবেতার জীবনযাপন করছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ ও প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণ সমগ্রী করা হয়। উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মানদীর মধ্যে থাকা ১৫টি চর রয়েছে। এ চরের ১৮ শ পরিবার গত ২ সপ্তাহ থেকে পানিবন্দি রয়েছে। ক্রমাগত পদ্মায় পানিবৃদ্ধির কারণে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। পানিবন্দির কারণেই স্কুলে যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।