স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় সাখাওয়াত হোসেন প্রধান আসামি।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ল²ীনারায়ণপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহমখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বণী ইসরাইলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম সাখাওয়াতকে তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে রাজশাহী নিয়ে আসা হয়। এরপর থানায় রেখে প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদ শেষে গতকাল শুক্রবারই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আর আদালতে তার সাত দিনের রিমান্ডেরও আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আবেদনের শুনানি হয়নি।
লিজা রহমান রাজশাহী মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয়বর্ষে পড়াশোনা করতেন। গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলায় তার বাড়ি। নিজের ইচ্ছায় আদালতের মাধ্যমে গত জানুয়ারিতে তিনি সাখাওয়াতকে বিয়ে করেছিলেন। সাখাওয়াত রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সাখাওয়াতের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায়।
বিয়ের পর লিজা ও সাখাওয়াত আলাদা দুটি মেসে থাকতেন। কিন্তু ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেয়া এবং ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মাকে হুমকি দেয়ার ঘটনা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মতবিরোধ হয় লিজার। একপর্যায়ে সাখাওয়াত লিজার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে লিজা শাহমখদুম থানায় অভিযোগ দায়েরের জন্য ঘুরছিলেন। কিন্তু থানা অভিযোগ নিচ্ছিল না। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার লিজা আবারও থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু থানা লিজার কোনো লিখিত অভিযোগ নেয়নি। এরপর থানা থেকে বেরিয়ে কিছুটা দূরে এসে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগান তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানো হয়। আগুনে লিজার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় লিজার বাবা আলম মিয়া তার মেয়েকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করার অভিযোগ এনে স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান আসামি করে বুধবার রাতে শাহ মখদুম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।