সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে আবু সাঈদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত আবু সাইদ উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের দুবলাই গ্রামের কোরবান আলী মÐলের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামকে আটক করে। অন্যদিকে, জেলার তাড়াশে মামার হাতে ভগ্নে খুন হয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহতের মেয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় কাজিপুর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সদরের আলমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম মেয়েটির গৃহশিক্ষক ছিলেন। পূর্বে তাদের মধ্যে কিছুটা সম্পর্ক থাকলেও অনার্স ভর্তির পর সম্পর্কের অবনতি হয়। পরবর্তী সময়ে ওই গৃহ শিক্ষক প্রায় মেয়েটিকে কলেজ যাবার পথে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে এর আগেই তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেন মেয়েটির স্বজনরা। বুধবার দুপুরে মেয়েটি কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমিনুল পথ আগলে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় আমিনুল ও তার লোকজন আবু সাঈদকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির করে। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। উত্ত্যক্তের ঘটনায় বুধবার রাতে আমিনুলকে আটক করা হয়।
কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম লুৎফর রহমান জানান, আমিনুলকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বড়ভাই আবু তালেব। বৃহম্পতিবার দুপুরে আটককৃত আমিনুলকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
তাড়াশ প্রতিনিধি জানান, তাড়াশে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মামার হাতে তার ভাগ্নে আব্দুল জাব্বার (১৩) খুন হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশিরা জানান, সপ্তাহ খানেক আগে ওই গ্রামের মৃত লইমুদ্দীন শেখের ছেলে মোহাম্মদ আলী শেখের সাথে তার ভগ্নিপতি (নিহত আব্দুল জাব্বারের পিতা) রবিউল ইসলামের হাঁস পালন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। এরই জের ধরে বেলা ১১টার দিকে জাব্বারের বাবা-মা’র অনুপস্থিতে মামা মোহাম্মদ আলী শেখ তাদের শোবার ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে ভাগনে জাব্বারকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সন্ধ্যে ৬টার দিকে রাস্তায় গাড়ির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।