স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে থানা থেকে বাইরে বেরিয়ে প্রকাশ্যে কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন দেয়া কলেজছাত্রী লিজা রহমানের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা হয়েছে। লিজার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর শাহমখদুম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, শ্বশুর মাহবুব আলম খোকন এবং শ্বাশুড়ি নাজনিন বেগমকে আসামি করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
লিজা রহমানের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি রাজশাহী মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন। লিজা নিজের ইচ্ছায় আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। তার স্বামী সাখাওয়াত রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সাখাওয়াতের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায়। বিয়ের পর লিজা ও সাখাওয়াত আলাদা দুটি মেসে থাকতেন।
কিন্তু ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়া এবং ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার মতবিরোধ হয় লিজার। এ নিয়ে গত শনিবার তিনি প্রথম নগরীর শাহমখদুম থানায় অভিযোগ করতে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে থানা সংলগ্ন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়েছিলেন। কিন্তু লিজার কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় রেকর্ড নেই।
লিজা সেখান থেকে বেরিয়ে খানিক দূরে এসে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগান। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানো হয়। বুধবার ভোরে লিজা সেখানে মারা যান।
নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, তদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের কারও কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।