এফএনএস : রাজধানীতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) ‘শীর্ষ নেতাসহ’ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
এই তিন জনের মধ্যে মো. আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার (৪৯) একসময় আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং স¤প্রতি দেশে ফিরে হুজিকে নতুন করে সংগঠিত করছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন- মো. বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (৪২) ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীম (৪৩)। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত বুধবার বিকালে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাদের হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ গঠনের পর এ দলের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ১৯৯৬ সালে যে কমিটি করেছিলেন, তাতে আতিকুল্লাহ ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক।
পরে তাকে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের শুরুর দিকে দুবাই হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে আত্মগোপন করেন আতিকুল্লাহ। সাংগঠনিক কাজে তিনি একাধিকবার পাকিস্তানে গেছেন বলেও তথ্য পেয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আফগান ফেরত যোদ্ধা আতিকুল্লাহ একজন বোমা বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর এ বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে হুজির পুরনো সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের আবার সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় করেন। পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনের কার্যক্রম চাঙ্গা করার কাজ শুরু করেন। সংগঠনকে গতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতিকুল্লাহর ‘সাংগঠনিক সফর’ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথও তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, পাকিস্তান, দুবাই ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আতিকুল্লাহর যোগাযোগ রয়েছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধকালীন সময়ে ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, আয়মান আল জাওয়াহিরির মত আল-কায়েদা ও তালেবান নেতাদের সঙ্গেও তার একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন শামীম হুজির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনী জেলার দায়িত্বে ছিলেন। কাশ্মীরের উত্তেজনা ও রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন বলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ভাষ্য।