এফএনএস: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের সব ধরণের প্রচার কাজ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর থেকে বন্ধ হয়েছে। আরপিও’র ৭৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুর্বর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা করা যাবে না।
প্রার্থীরা গত বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শেষ সময়ের জনসংযোগ ও প্রচারণা চালান। রংপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এজন্যই ৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ৭ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা করা যাবে না। এছাড়া যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগের দিন রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সি ক্যাব, বেবিট্যাক্সি/ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপভ্যান, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজি বাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পীডবোটগুলোর চলাচলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। তবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে সীমিত আকারে যান চলাচল করবে।
এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়ক এবং নির্বাচন সংশিৱষ্ট যানবাহন বা নৌযান ও জর্বরি সেবাদানকারী বা এমন যান চলাচলের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য হবে। সাংবাদিক, প্রার্থী ও প্রার্থীর এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষদের গাড়িও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। আর মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে ৩ অক্টোবর মধ্যরাত ১২টা থেকে ৬ অক্টোবর মধ্যরাত ১২ পর্যন্ত।
এ নির্দেশনার ব্যত্যয় হলে নির্বাচন কমিশন সংশিৱষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও রাখে। এদিকে, শেষ সময়ে জাতীয় পার্টির রাহগীর আল মাহী ওরফে সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমান ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার ওরফে আসিফ (আসিফ শাহরিয়ার) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে তাদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিন প্রার্থীই জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদের কথা জানান। গত বুধবার রাতে জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের স’ানীয় এক কমিউনিটি সেন্টারে দলীয় কর্মীসভায় জাপা প্রার্থী সাদ এরশাদকে জয়ী করার আহ্বান জানান। কর্মিসভায় মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাও বক্তব্য রাখেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নগরীসহ নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল ও মোটরযান চলাচল বন্ধ এবং বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার নির্বাচনি এলাকার ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে প্রশিক্ষণ (মক) ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটাররা তাদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার মহড়া দিয়েছেন।
প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি ভোটারদের দেখিয়ে দেন। নগরীর বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের মক ভোট দিতে দেখা গেছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গত ১৪ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস’ায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
তার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব (র্বটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া ১৬ জুলাই রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন।
নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি এরশাদ (সাদ), বিএনপির রিটা রহমান, স্বতন্ত্র হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্টের কাজী মোহাম্মদ শহীদুলৱাহ এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান ম-ল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর-৩ আসনটি সদর উপজেলা এবং ১ থেকে ৮ নম্বর ব্যতীত রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন।
এদের মধ্যে পুর্বষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নিয়েছিল ইসি। ১লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট। ভোট পড়েছিল ৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।