এফএনএস: সরকার দেশের অন্যতম প্রধান স’লবন্দর বেনাপোলে পণ্যবাহী পরিবহন সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সেজন্য ২৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভারতের সঙ্গে স’ল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোল স’লবন্দরের ব্যবহারের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রফতানিতেও আরো গতিশীলতা আসবে। তাছাড়া বন্দর সংশিৱষ্ট সড়কেও যানজট কমে আসবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংশিৱষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশিৱষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকা- সম্পাদনের ক্ষেত্রে স’লবন্দরগুলোর মধ্যে বেনাপোলের গুর্বত্ব অনেক বেশি। বিষয়টির গুর্বত্ব বিবেচনা করে বেনাপোল স’লবন্দরের সক্ষমতা ও পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ‘বেনাপোল স’লবন্দরে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়নে একত্রে ১ হাজার ২৫০টি ট্রাক রাখা যাবে। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা পণ্যবাহী গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে। বাড়বে বন্দরের সীমানাও। বাংলাদেশ স’লবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ প্রায় ৪ হাজার ৯৫ কি.মি ভারতের সঙ্গে, ২৫৬ কি.মি. মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ৫৮০ কি.মি সমুদ্রসীমানা দ্বারা বেষ্টিত। ভারতের আমদানি-রফতানি তথা বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বেনাপোল স’লবন্দর সবচেয়ে গুর্বত্বপূর্ণ এবং সর্ববহৎ। এ বন্দর দিয়ে স’লপথে প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে। বন্দরের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রফতানি হয়। তা থেকে সরকার প্রতিবছর প্রত্যক্ষভাবে ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করে থাকে।
বেনাপোল স’লবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৪০০/৫০০ ভারতীয় এবং ৫০০/৬০০টি বাংলাদেশী পণ্যবাহী ট্রাক আসে। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের টার্মিনালে থাকার কথা থাকলেও ব্যবহারযোগ্য টার্মিনাল না থাকার কারণে অধিকাংশ গাড়ি সড়কে পার্ক করে রাখা হয়। ফলে অন্যান্য গাড়ি চলাচলে তৈরি হয় তীব্র যানজট। তাছাড়া স’ান সংকুলান ও অবকাঠামো স্বল্পতার কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে।
তাতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এ অবস’ায় কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে করে নৌ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে (জিওবি) বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছর থেকে আগামী ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের অনুমোদন করে একনেক।
সূত্র আরো জানায়, বেনাপোল স’লবন্দরের পরিধি বাড়ানোর জন্য প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ করা হবে ২৯ দশমিক ১০ একর। ভূমি উন্নয়ন করা হবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৭ ঘনমিটার এলাকার। আর পুরো বন্দর এলাকায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে। অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
থাকবে পার্কিং ইয়ার্ড বা ওপেন ইয়ার্ড। নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। টয়লেট কমপেৱক্স থাকবে ৩টি। বন্দরে প্রবেশের জন্য মেইন গেট, গেট হাউস ও সিকিউরিটি সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। বন্দর সীমানার অভ্যন্তরে ১৭ হাজার ঘনমিটার প্রশস’ পুকুর খনন করা হবে। থাকবে চারটি ওয়াচ টাওয়ার, একটি ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। এর ফলে বেনাপোল স’লবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। আমদানি-রফতানির কাজে গতিশীলতা আনবে। স’লবন্দর ও সংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসন হবে। বাণিজ্য সমপ্রসারিত হবে।
সেজন্য বর্তমানে বেনাপোল স’লবন্দরের পরিধিও বাড়ানো হবে। প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রকল্পটি নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সুপারিশ পালন শর্তে পরবর্তীতে একনেকে উত্থাপন হয়।
এদিকে এ বিষয়ে ক্লিয়ারিং এ্যান্ড ফরোওয়ার্ডিং এজেন্ট সংশিৱষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গুর্বত্বপূর্ণ বেনাপোল স’লবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথে এগুবে। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বন্দরটির উন্নয়নে বাণিজ্য সমপ্রসারণ সহজ হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরো বাড়বে। কাজকর্মে আসবে আরো গতি।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমদানি-রফতানিতে গতিশীলতা আসবে। পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়া বাড়বে এই বন্দর ব্যবহারের চাহিদাও। তাছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উলেৱখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, আমদানি-রফতানি কাজে গতি আনা এবং স’লবন্দর সংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে স’ল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বন্দর ব্যবহারের চাহিদাও বাড়বে।