স্টাফ রিপোর্টার: আদালতের আদেশ ছাড়াই রাজশাহী জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলের একটি দোকান ভেঙে দিয়েছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আকতার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটান তিনি।
দোকান ভাঙার প্রতিবাদ করার কারণে ইউএনও শিমুল আকতার ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলকে আটকও করেছিলেন। তবে জনরোষের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে পক্ষপাতিত্ব করে ইউএনও এই দোকান ভেঙেছেন। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, রাজাবাড়ীহাট চেকপোস্ট সংলগ্ন নিজের জমিতে মার্কেটের দোকান ঘর নির্মাণ করছেন রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল। এতে রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিউটি খাতুনের বাড়ি পেছনে পড়ে যায়। বিউটি বেগমের স্বামীর নাম আরিফ। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও গোদাগাড়ীর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের মামা।
বিউটি খাতুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও শিমুল আকতার ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলকে রাস্তা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্ত রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল রাস্তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ইউএনও মার্কেটের দোকান ভেঙে রাস্তা করার জন্য নির্দেশ দেন। তখন শ্রমিকরা দোকান ভাঙার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে ইউএনও’র নির্দেশে রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলকে আটক করে পুলিশ। এ সময় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে রফিকুলের দোকানটি ভেঙেই যান ইউএনও।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল বলেন, আমার জমিতে আমি মার্কেটের দোকানঘর নির্মাণ করেছি। মার্কেটের পেছনের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য আমার জমির এক পাশ দিয়ে রাস্তা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাড়ির মালিক বিউটি খাতুন রাস্তার জমির জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হননি। কিন্তু তারপরেও রাজনৈতিক প্রভাবে তার পক্ষ নিয়ে ইউএনও আমার দোকান ভেঙেছেন। আমাকে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি। তাই আদালতেরও কোনো নির্দেশ নেই। তারপরেও দোকান ভেঙে ফেলায় আমার অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেব।
এদিকে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা বলেন, ইউএনও শিমুল আকতার অনেকটা গায়ের জোরেই রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলের দোকান ভেঙেছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে পক্ষপাতিত্ব করেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্তের দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও শিমুল আকতার বলেন, মার্কেটের দোকান নির্মাণের কারণে বিউটি খাতুনের পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এ ব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই দোকানটি ভাঙা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সত্য নয় বলেই দাবি করেন ইউএনও।