স্টাফ রিপোর্টার: গত ২০ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। তবে কমেনি পানিবন্দী দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ।
রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ৪ উপজেলার দুর্গত পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া শহররৰা বাঁধের ৰতিগ্রস্ত অংশে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা অব্যাহত রয়েছে।
সংশিৱষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির গতি আগের চেয়ে কমে আসলেও তা অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার পদ্মাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা পৱাবিত অব্যাহত রয়েছে। পদ্মাপাড়ের মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা, গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর, নবগংঙ্গা, সোনাইকান্দি, বেরপাড়া, চারঘাট এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি আরো বেড়েছে। নীচু এলাকার বাড়িঘরসহ ৰেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল পৱাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন চরের শিৰা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন উপজেলার পানিবন্দী পরিবারগুলোর কাছে জর্বরীভাবে ত্রানসামগ্রী পৌছানো শুর্ব করেছে প্রশাসন। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিসহ কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার বানভাসি পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রানসামগ্রী বিতরন অব্যাহত আছে। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরনকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়। দুর্গত পরিবারগুলোকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। পানি কমলে ৰতিগ্রস’দের পর্যায়ক্রমে পূনর্বাসনের আওতায় নেয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৮ দশমিক ১৯ মিটার। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৮ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।