এফএনএস : বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি জনগণের ‘আত্মবিশ্বাস’ ধরে রাখতে উন্নয়নের তথ্যও স¤প্রচারের আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক স¤প্রচারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি এ আহŸান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কিছু করবেন না যাতে ‘এতকিছু পাওয়ার পরেও’ দেশের মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে; দিশেহারা হয়ে যায়। ‘যেটুকু ভালো কাজ’ করেছি অন্তত সেটুকুর প্রচার অবশ্যই আমি দাবি করি। আমি চাইতে পারি সেটা আপনাদের কাছে। গোটা ১০ বছরে দেশের জন্য কিছু কাজতো করেছি। এটা তো অস্বীকার করতে পারবেন না। সেটাও একটু প্রচার করবেন। যাতে মানুষের ভেতরে একটা বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। তারা যেন আরো সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারেন।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক স¤প্রচারের জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় মালিকদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে করে যে টাকাটা খরচ করতেন, সেটা কিন্তু বেঁচে গেল। এখন সে টাকা কি করবেন এটাও আমার একটু প্রশ্ন আছে। কিছু একটু দান-টান করে দিয়েন দরিদ্র মানুষের জন্য। কারণ অনেক টাকাই আপনাদের বেঁচে যাচ্ছে-এটাও বাস্তবতা। তাছাড়া টাকাটা পাঠানোতেও নানা ঝামেলা ছিল। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা, দুর্গম পাহাড়ে বা চর অঞ্চলের বা হাওড় অঞ্চলের মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন সেবা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-এডুকেশন পদ্ধতি চালুর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটা স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সময় থাকে ১৫ বছর। এর মধ্যে আরেকটা আমাদের আনতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টা তৈরি করা শুরু করেছি, সময় থাকতে নিয়ে আসব। সেটা আমরা একটু বড় আকারে করতে চাই। ৯৬ সালে সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতে টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তখন অনেকেই এত অভিজ্ঞ ছিল না; অতোটা সাড়াও পায়নি। কিন্তু যারা চেয়েছিল তাদের সকলকেই টেলিভিশন দিয়ে দিই। কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িতদের কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করা ও বাংলাদেশকে থেকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এ বিষয়ে তিনি উদার ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে যেই হোক না কেন। এখানে দল, মত, আত্মীয়, পরিবার বলে কিছু নেই। যারাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমার হারাবার কিছু নেই; আমি বাবা মা ভাই সব হারিয়েছি। মানুষ একটার শোক সইতে পারে না আমরা দুই বোন একই দিনে সব হারিয়েছি।
সেই বেদনা, শোক বুকে নিয়েও আমার ফিরে আসা। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর একটাই কর্তব্য মনে করি, সেটা হচ্ছে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন; এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন; দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ বিনির্মাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সভাপতি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।