স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে গত ১৯ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে চরাঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। এতে পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বাড়ছে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা।
রাজশাহী জেলার ৪ উপজেলার দুর্গত পানিবন্দী পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পবার পদ্মাপাড়ের ২ ইউনিয়নের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রান বিতরন করেন ইউএনও। এছাড়া মহানগরীর টি-গ্রোয়েন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার পদ্মাপাড়ের নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা পাড়ের গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর, নবগংঙ্গা, সোনাইকান্দি, বেরপাড়া, চারঘাট এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি আরো বেড়েছে। নীচু এলাকার বাড়িঘরসহ ক্ষেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। তিন উপজেলার বিভিন্ন চরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন উপজেলার পানিবন্দী পরিবারগুলোর কাছে জরুরীভাবে ত্রানসামগ্রী পৌছানো শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
গতকাল বুধবার পবার পদ্মার তীর সংলগ্ন চরাঞ্চলের পানিবন্দী পরিবারদের দেখতে হরিপুর ইউনিয়নের হাড়–পুর, নবগংঙ্গা, সোনাইকান্দি, বেরপাড়া, হরিয়ান ইউনিয়নের মধ্যচর, চরখিদিরপুর ও চরখানপুর পরিদর্শন করেছেন পবা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন। তিনি সেখানে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রানসামগ্রী, নিরাপদ পানি ও আর্থিক সহযোগিতা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল, হরিয়ান ইউপি’র চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু, পবা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম, শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান, স্থানীয় নারী ইউপি’র সদস্য কহিনুর বেগমসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন উপজেলার বানভাসি পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রানসামগ্রী বিতরন অব্যাহত আছে। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরনকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়। এই দুর্গত পরিবারগুলোকে শীঘ্রই ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যায়ক্রমে পূনর্বাসনের আওতায় নেয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৮ দশমিক ১৮ মিটার। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১০ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।