এফএনএস : খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামিন পেলে খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন এ কথা বিএনপির যে সদস্য (এমপি হারুন) বলেছেন তিনি আমার সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। তিনি আমাকেও একই কথা বলেছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানাতে বলেছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আসলে আদালতের। আদালতকে জামিন দেওয়ার কথা আমরা কীভাবে বলবো। বিচার বিভাগ তো স্বাধীন।
তিনি বলেন, যখন আদালত তাকে জামিন দেবেন তখন পক্ষে-বিপক্ষে কথা হবে। খালেদা জিয়াকে জামিন দেবেন কিনা সেটা বিচারকের বিষয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তো আমাদের কোনও বিরোধ নেই। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প কিছু বলেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি বিকল্প কিছুই বলেনি। এ ছাড়া জামিন নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করার বিষয়ে খালেদা জিয়ার ইচ্ছাও থাকতে পারে। বিএনপির এমপি হারুন নিজেও প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভেতরে ভেতরে ওনারা সরকারের কাছে জামিন চাইলেও বাইরে বলছেন আন্দোলন করে তারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। আমি চাই তারা আন্দোলন করুক। আমি তো তাদের আন্দোলনের ছিটেফোঁটাও দেখি না। বিদেশে বসে আন্দোলনের কর্মসূচি দিলে আন্দোলন হয় না। যদি আন্দোলন করার সক্ষমতা থাকতো তাহলে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরপরই আন্দোলন হতো। সামনে গরম খবর অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যখন জানাবো তখনই বুঝবেন কী ধরনের খবর। এর আগে বেলা ১১টায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শন নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর।
কিন্তু হঠাৎ সেটি বাতিল করে সচিবালয়ে ব্রিফ করার জন্য সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাংবাদিকরা জানতে চান- কোনো গরম খবর আছে কি-না? তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, গরম খবর আসছে, আসবে। একটু অপেক্ষা করুন, গরম খবর পাবেন। কী ধরনের গরম খবর হতে পারে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন খবরটা পাবেন তখন দেখবেন। আগে বলে দিলে সারপ্রাইজ থাকবে না। এরপর সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
শেষ দিকে সাংবাদিকেরা জানতে চান- শুরুতে বলেছিলেন একটা গরম খবর, সময় এলে জানাবেন বলেছেন। কী ধরনের গরম খবর? অভিযান নিয়ে কোনো গরম খবর? স¤্রাটকে (যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাট) নিয়ে কোনো খবর? তার আপডেটটা কী? এসব জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি তো বলছি ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন। এটা কি স¤্রাটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাকি আরও অনেকের ক্ষেত্রে- এ প্রশ্নে কাদের বলেন, না; আমি কিছু বলবো না।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন কোনো দিক-নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যায় আলাপ করবো। আমি অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে দিলাম প্রধানমন্ত্রী এটা বলবেন। শেষ পর্যায়ে আবারও সাংবাদিকেরা জানতে চান- সন্ধ্যার পর কি গরম খবর পাচ্ছি? ওবায়দুল কাদের বলেন, সেটা আমি জানি না। ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত দলীয় লোকদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন কিনা- প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা তো নানাভাবে নেওয়া যায়। হয়তো একজন একটা ভালো পদে আছেন, তার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ থাকলে তিনি পদ হারাতে পারেন- সেটাও একটা শাস্তি। এ ধরনের শাস্তি গত নির্বাচনে মনোনয়ন ও মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে অনেকেই পেয়েছেন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তো শুধু দল থেকে বের করে দেওয়া নয়, পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং পদাবনতিও একটা শাস্তি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের মধ্যে চাঁদাবাজ, ক্যাসিনো পরিচালনাকারী ও ধান্দাবাজদের সম্পর্কে আপনারা এতোদিন লেখালেখি করেননি কেন? আমরা অভয়ের দরজা খুলে দিয়েছি।
এখন আপনারা লিখুন। চাঁদাবাজরা যে দলেরই হোক তাদের তথ্য চেয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের চাঁদাবাজি ওপেন সিক্রেট- এক সাংবাদিক এ বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা তৃণমূলে সম্মেলন করছি, সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছি। এখানে কিন্তু একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে জনগণের অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সেসব লোককে আমরা দলে নেতৃত্বের পদে বসাবো না। সারা বাংলাদেশে এটা আমাদের লক্ষ্য। যারা ওয়ার্ডভিত্তিক চাঁদাবাজি করছেন তাদের তালিকা আছে কিনা- জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমার কাছে কোনো তালিকা নেই তবে নজরদারি আছে। অপর এক সাংবাদিক বলেন, এখনও তথাকথিত লাইনম্যানেরা ফুটপাত থেকে চাঁদা ওঠাচ্ছে- তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে কাদের বলেন, আপনি একটা ধরে নিয়ে আসেন, আজকেই জেলে দেবো। আমাকে কানে কানে বলেন। এগুলোকে দলে রাখবো না। খিলগাঁও রেলগেট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত একটি লেগুনাকে প্রতিদিন সাড়ে সাতশ টাকা চাঁদা দিতে হয়, এটা আপনারা জানে না- এ বিষয়ে কাদের বলেন, দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দুর্বৃত্তায়নকে আমি দুর্বৃত্ত হিসেবে দেখি। এটা দলের লোক হলেও দুর্বৃত্ত, দলের বাইরে হলেও দুর্বৃত্ত। তাদের ব্যাপারে লেখালেখি করুন। এখন অভয়ের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে, লিখুন।
এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, মন্ত্রী-এমপি হয়ে কে অবৈধ সম্পদ অর্জন করছে প্রকাশ করুন। প্রধানমন্ত্রী তো নিজে শুদ্ধি অভিযান দলের মধ্যে শুরু করে সুযোগ করে দিয়েছেন, এখন লিখুন। দুদকে আমাদের কোনো কোনো এমপির কনভিকশন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলোর সম্মেলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হবে। তিনি ভারত যাওয়ার আগেই এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। পারফরমেন্সের ভিত্তিতে এবার নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন আগে হবে। উজ্জ্বল ভাবমূর্তির নেতারাই এবার সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে আসবে তিনি বলেন, যে সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে। প্রথমত যেগুলো বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ অর্থাৎ, ২০১২ সাল এবং তার আগে যেগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ, সেগুলো আগে হবে। এরপর ২০১২ থেকে যে ইউনিট সেগুলোর হবে পরে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করবো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় আমাদের নেতারা সফরে যাচ্ছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর আমি কক্সবাজার দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। জেলাভিত্তিক প্রতিনিধি সম্মেলন হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন তারিখ নির্ধারণ করাটাই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই তো নেতৃত্বের পরিবর্তন কিছু আসবে, নতুন মুখ আসবে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এবার নির্বাহী কমিটি সাজানো হবে। আমি আমাদের নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে যেটা বুঝেছি ক্লিন ইমেজ, উজ্জ্বল ভাবমূর্তি যার রয়েছে তারাই নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাবেন এবং ভালো পদে যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ পদেও যাবেন। যাদের ক্লিন ইমেজ আছে, পারফরম্যান্স ভালো তাদের অবশ্যই আপগ্রেডেশন হবেই। দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে, দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগের সংগ্রাম-আন্দোলনে ছিল সেসব লোকেরাই আসবে, এদের মধ্যে নতুন মুখও আসবে। যারা বয়সে অপেক্ষাকৃত কম কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসে নাই, এমন অনেকেই আসতে পারেন।
বিএনপি-জামাতের কাউকে দলে ঢোকাবেন কিনা- প্রশ্নে কাদের বলেন, না। আগে যেগুলো হয়েছে সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। তদন্তে তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নমিনেশন দেওয়া হয়নি। এটাও একটা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এ মুহূর্তে অনেক উচ্চতায় অবস্থান করছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়েই কথা হবে। দুই প্রধানমন্ত্রী অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। শুধু তিস্তা নয়, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা হবে।