এফএনএস: চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সুযোগ নিয়ে কোন অশুভ শক্তি যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সে জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখাপত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাবধান থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লড়াই শুরু করেছেন। সেই সুযোগে কোন অশুভ শক্তি যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে। তিনি গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণতন্ত্রী পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, দেশের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজটি ইতোমধ্য শুরু করেছেন। যারা ত্যাগের সময়ে ছিলেন, জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর অদর্শ বিশ্ব করেন তারা কখনো দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির সাথে জড়িত হতে পারে না। গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মাহমুদুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদেও সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহŸায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জামিন পেলে খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন এ কথা বিএনপি নেতা বলছেন। জানিনা এই কথা তারা দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন কিনা। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আসলে আদালতের। আদালতকে জামিন দেওয়ার কথা আমরা কীভাবে বলবো। বিচার বিভাগ তো স্বাধীন। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তারা আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে কোথায় ছিল? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই সকল দুর্নীতিবাজ ডনদের আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলেন? যখন রাস্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মার খেয়েছে এরা তো তখন মাঠে ছিল না।
রাশেদ খান মেনন বলেন, দুর্নীতিবাজ, দুশাসন ও সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে অভিযান ছলছে তা অব্যহত রাখতে হবে। আমরা যদি এই ধারা বাহিকতা নিয়ে এগুতে পারি তাহলেই বাংলাদেশকে কার্যকর রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা বাংলাদেশের আইনকে, বাংলাদেশের সংবিধানকে, নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছিল। আজকে আমরা বলতে পারি, আমরা তাদের সেই দুরভিসন্ধি ব্যর্থ করে দিয়েছি। তারা আজকে রাজনীতির ধারায় এসেছে, গণতন্ত্রের ধারায় আসতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের ধারায় এসেছে এবং সাংবিধানিক ধারায় এসে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে। এটাই হচ্ছে ১৪ দলের সংগ্রামের একটি মাইল ফলক।