সোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও বাঘা পদ্মা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাকশী ও ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার তীর সংলগ্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ফসল। গোদাগাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ৪টি ইউনিয়েনের ১২টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। এতে করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর পদ্মার ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে স্কুলসহ ২ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। স’ানীয় লোকজন জানান, ফারাক্কার ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় পদ্মানদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মানদীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপাত্ত সংগ্রহকারী এনামুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা চরআষারিয়াদহ ইউনিয়নের চর নওশেরা, হুমনত্মনগর, নতুনপাড়া, আমতলা খাসমহল, বারিনগর, চরবয়ারমারী, চরবাসুদেবপুর ইউনিয়নের হাতনাবাদ, গোগ্রাম ইউনিয়নের নিমতলা, আলীপুর, দেওপাড়া ইউনিয়নের খরচাকা, মোলস্নাপাড়া গ্রাম বন্যায় পস্নাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় লোকজন জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়ছে। বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পড়্গ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যার্ত মানুষ উঁচু জায়গায় স্কুল ও রাসত্মার পাশে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। চর আষারিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউলস্নাহ বলেন, পদ্মানদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গোটা ইউনিয়ন বন্যায় পস্নাবিত হবে। বন্যায় সঠিক ড়্গতির পরিমাণ জানা না গেলেও ৭০ হেক্টর টমেটো, ৬০ হেক্টর মাসকলাই ও ২০ হেক্টর শাক-সবজির জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়েছে। নদী ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্ণ পদ্মায় বিলীন হওয়ায় এসব মানুষ রাসত্মার পাশে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের মুখে দিয়াড় মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাট সেন্টারসহ ৩টি গ্রামের ২ শ বেশি বাড়ি-ঘর থেকে আসবাব পত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে লোকজন। এদিকে একটানা বৃষ্টির পানিতে গোদাগাড়ী পৌরসভা, মাটিকাটা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, পাকড়ি, কাকনহাট পৌরসভা ও রিশিকুল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আকতার বলেন, বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। নদীভাঙনে ড়্গতিগ্রসত্মদের ত্রাণ দেয়া হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাণিসম্পদ, জনস্বাস’্য, কৃষি, শিড়্গা, মৎস্য অধিদপ্তরের টিম রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও দুযোর্গ ব্যবস’াপনা কমিটি বন্যার্তদের সার্বড়্গণিক খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে ড়্গতিগ্রসত্মদের সাহায্যও জন্য জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, বাঘায় পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছ। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি ও শিড়্গা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স’াপনা। এলাকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। সেই সাথে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এসব এলাকার শিড়্গাথীদের পড়াশুনা। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১১টি বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এই ১১ শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের শিড়্গাথী রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬ শ। আর গত ২ সপ্তাহ ধরে এ ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৮ শ পরিবার পানিবন্দি অবস’ায় রয়েছে। বন্যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের শিড়্গা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ঘর-বাড়িসহ কয়েক হাজার আবাদি-অনাবাদি জমি ও গাছ পালা। ভিটে-মাটি হারিয়ে পথে বসেছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। মানবেতার জীবনযাপন করছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। হুমকির মধ্যে পড়েছে চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে কোন সময় পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এ বিদ্যালয়টি। এছাড়া পদ্মার চরে ৯টি প্রাথমিক ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৬ শ শতাধিক শিড়্গার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নদী ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়েছে চরের পলাশি ফতেপুর, চকরাজাপুর, জোতনাশি, লড়্গিনগর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া এলাকা। এই ইউনিয়নের পদ্মা চরে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পড়্গ থেকে দেড় শতাধিক গৃহহারা পরিবারকে কিছু ত্রাণ ও মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৭ শতাধিক পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারকে ২০ কেজি চালসহ অন্যান্য সামাগী বিতারণ করা হয়। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, নদী ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের পরিসি’তি বুঝে শিড়্গা অফিসার সিদ্ধানত্ম নিবেন। অনেক দুর্দশার মধ্যে চরের মানুষ বসাবস করছে। তাদের জন্য ত্রান দেয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, উজান থেকে ধেয়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দার পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার পানি বিপদসীমা হচ্ছে ২২ দশমিক ৫০ সেমি ও মহানন্দা ২১ মিটার। মঙ্গলবার বিকেল পর্যনত্ম পদ্মার পানি ৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ১৫ সে.মি. ও মহানন্দায় ১৯ সে.মি. পানি বৃদ্ধি ২০ দশমিক ৭১ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এতে করে নতুনভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চরমোহনপুর ও নামোশংকরবাটি বড়িপাড়া ও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. ও মহানন্দা ২৯ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বন্যা হওয়ার আশঙকা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকার চরমোহনপুর ও নামোশংকরবাটি বড়িপাড়ার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হওয়ায় ৪ শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম তাজকির-উজ-জামান জানান, বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের পড়্গ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি সভা হয়েছে। এছাড়া যে কোন ধরনের পরিসি’তি মোকাবেলায় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রত্যনত্ম চরাঞ্চল নারায়নপুর ইউনিয়নে বন্যায় ড়্গতিগ্রসত্মদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যনত্ম প্রত্যনত্ম এ ইউনিয়নের ৬নং বাঁধ, ৮নং বাঁধ ও জোহরপুর এলাকার পানিবন্দি ৪ শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস’াপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত এসব চাল বিতরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেন।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মানদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। দুপুরে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পদ্মার পানি। এদিকে পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের নিমাঞ্চলের মানুষ। ডুবে গেছে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকার স্বজনদের বাড়িতে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার আশঙকা নেই। কিছুদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকু-া ইউনিয়নের আখ, ফুলকপি, গাজর, মাষকলাই, মুলা, বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ, ধানসহ কয়েক শ হেক্টর জমির সবজি ও ফসল তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, সবচেয়ে বেশি ড়্গতি হয়েছে লক্ষ্মীকু-ার দাদাপুর, চরকুরুলিয়া, কামালপুর ও বিলকেদায়। তিনি আরো বলেন, তবে পানি কমার পর ড়্গয়ড়্গতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান রানা সরদার বলেন, কয়েক বছর ধরে এ এলাকায় পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। এবার উজানে প্রবল বর্ষণ ও ধেয়ে আসা পানিতে পদ্মানদীর কোমরপুর থেকে সাঁড়াঘাট পর্যনত্ম রড়্গা বাঁধের ২ থেকে ৩ ফুট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নের রূপপুর সড়কের নিচু অংশের ফসলসহ জমি তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স’ানে নতুন করে পস্নাবিত হচ্ছে ফসলসহ জমি। তবে এখন পর্যনত্ম কোন ড়্গয়ড়্গতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে পাবনার বাংলা বাজার লঞ্চঘাট, সুজানগর, নাজিরগঞ্জ, চলনবিল, বড়াল, গোমতী, চিকনাইসহ ছোট ছোট নদী ও বিলে পানি বেড়েছে।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মানদীর পানি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভেড়ামারা ও দৌলতপুরসহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে ১ সেন্টিমিটার করে। মঙ্গলবার দুপুরে পানি পরিমাপ করার পর দেখা যায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে।
কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, ভেড়ামারার পদ্মানদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ২০ সেন্টিমিটার।
এদিকে পদ্মার শাখা গড়াই নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও গড়াই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গড়াই নদীর পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্ন এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জিকে ঘাট ছাড়াও বড় বাজার এলাকার বেড়িবাঁধের পাশে বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স’ানে আশ্রয় নিয়েছেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণকু-ু জানান, এই মুহূর্তে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় কখনও ১ সেন্টিমিটার আবার কখনও ২/৩ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়িত মনিটরিং করছি। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে ৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রশাসনের পড়্গ থেকে সার্বিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।রাজশাহী ও চাঁপাইয়ে পদ্মা-মহানন্দার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
সোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও বাঘা পদ্মা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাকশী ও ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার তীর সংলগ্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ফসল। গোদাগাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ৪টি ইউনিয়েনের ১২টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। এতে করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর পদ্মার ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে স্কুলসহ ২ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। স’ানীয় লোকজন জানান, ফারাক্কার ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় পদ্মানদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মানদীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপাত্ত সংগ্রহকারী এনামুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা চরআষারিয়াদহ ইউনিয়নের চর নওশেরা, হুমনত্মনগর, নতুনপাড়া, আমতলা খাসমহল, বারিনগর, চরবয়ারমারী, চরবাসুদেবপুর ইউনিয়নের হাতনাবাদ, গোগ্রাম ইউনিয়নের নিমতলা, আলীপুর, দেওপাড়া ইউনিয়নের খরচাকা, মোলস্নাপাড়া গ্রাম বন্যায় পস্নাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় লোকজন জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়ছে। বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পড়্গ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যার্ত মানুষ উঁচু জায়গায় স্কুল ও রাসত্মার পাশে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। চর আষারিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউলস্নাহ বলেন, পদ্মানদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গোটা ইউনিয়ন বন্যায় পস্নাবিত হবে। বন্যায় সঠিক ড়্গতির পরিমাণ জানা না গেলেও ৭০ হেক্টর টমেটো, ৬০ হেক্টর মাসকলাই ও ২০ হেক্টর শাক-সবজির জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়েছে। নদী ভাঙনে ৭৬টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্ণ পদ্মায় বিলীন হওয়ায় এসব মানুষ রাসত্মার পাশে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের মুখে দিয়াড় মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাট সেন্টারসহ ৩টি গ্রামের ২ শ বেশি বাড়ি-ঘর থেকে আসবাব পত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে লোকজন। এদিকে একটানা বৃষ্টির পানিতে গোদাগাড়ী পৌরসভা, মাটিকাটা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, পাকড়ি, কাকনহাট পৌরসভা ও রিশিকুল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আকতার বলেন, বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। নদীভাঙনে ড়্গতিগ্রসত্মদের ত্রাণ দেয়া হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাণিসম্পদ, জনস্বাস’্য, কৃষি, শিড়্গা, মৎস্য অধিদপ্তরের টিম রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও দুযোর্গ ব্যবস’াপনা কমিটি বন্যার্তদের সার্বড়্গণিক খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে ড়্গতিগ্রসত্মদের সাহায্যও জন্য জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, বাঘায় পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছ। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি ও শিড়্গা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স’াপনা। এলাকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। সেই সাথে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এসব এলাকার শিড়্গাথীদের পড়াশুনা। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১১টি বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এই ১১ শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের শিড়্গাথী রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬ শ। আর গত ২ সপ্তাহ ধরে এ ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৮ শ পরিবার পানিবন্দি অবস’ায় রয়েছে। বন্যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের শিড়্গা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ঘর-বাড়িসহ কয়েক হাজার আবাদি-অনাবাদি জমি ও গাছ পালা। ভিটে-মাটি হারিয়ে পথে বসেছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। মানবেতার জীবনযাপন করছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। হুমকির মধ্যে পড়েছে চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে কোন সময় পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এ বিদ্যালয়টি। এছাড়া পদ্মার চরে ৯টি প্রাথমিক ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৬ শ শতাধিক শিড়্গার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নদী ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়েছে চরের পলাশি ফতেপুর, চকরাজাপুর, জোতনাশি, লড়্গিনগর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া এলাকা। এই ইউনিয়নের পদ্মা চরে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পড়্গ থেকে দেড় শতাধিক গৃহহারা পরিবারকে কিছু ত্রাণ ও মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৭ শতাধিক পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারকে ২০ কেজি চালসহ অন্যান্য সামাগী বিতারণ করা হয়। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, নদী ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের পরিসি’তি বুঝে শিড়্গা অফিসার সিদ্ধানত্ম নিবেন। অনেক দুর্দশার মধ্যে চরের মানুষ বসাবস করছে। তাদের জন্য ত্রান দেয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, উজান থেকে ধেয়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দার পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার পানি বিপদসীমা হচ্ছে ২২ দশমিক ৫০ সেমি ও মহানন্দা ২১ মিটার। মঙ্গলবার বিকেল পর্যনত্ম পদ্মার পানি ৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ১৫ সে.মি. ও মহানন্দায় ১৯ সে.মি. পানি বৃদ্ধি ২০ দশমিক ৭১ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এতে করে নতুনভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চরমোহনপুর ও নামোশংকরবাটি বড়িপাড়া ও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. ও মহানন্দা ২৯ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বন্যা হওয়ার আশঙকা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকার চরমোহনপুর ও নামোশংকরবাটি বড়িপাড়ার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হওয়ায় ৪ শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম তাজকির-উজ-জামান জানান, বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের পড়্গ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি সভা হয়েছে। এছাড়া যে কোন ধরনের পরিসি’তি মোকাবেলায় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রত্যনত্ম চরাঞ্চল নারায়নপুর ইউনিয়নে বন্যায় ড়্গতিগ্রসত্মদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যনত্ম প্রত্যনত্ম এ ইউনিয়নের ৬নং বাঁধ, ৮নং বাঁধ ও জোহরপুর এলাকার পানিবন্দি ৪ শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস’াপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত এসব চাল বিতরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেন।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মানদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। দুপুরে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পদ্মার পানি। এদিকে পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের নিমাঞ্চলের মানুষ। ডুবে গেছে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকার স্বজনদের বাড়িতে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার আশঙকা নেই। কিছুদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকু-া ইউনিয়নের আখ, ফুলকপি, গাজর, মাষকলাই, মুলা, বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ, ধানসহ কয়েক শ হেক্টর জমির সবজি ও ফসল তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, সবচেয়ে বেশি ড়্গতি হয়েছে লক্ষ্মীকু-ার দাদাপুর, চরকুরুলিয়া, কামালপুর ও বিলকেদায়। তিনি আরো বলেন, তবে পানি কমার পর ড়্গয়ড়্গতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান রানা সরদার বলেন, কয়েক বছর ধরে এ এলাকায় পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। এবার উজানে প্রবল বর্ষণ ও ধেয়ে আসা পানিতে পদ্মানদীর কোমরপুর থেকে সাঁড়াঘাট পর্যনত্ম রড়্গা বাঁধের ২ থেকে ৩ ফুট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নের রূপপুর সড়কের নিচু অংশের ফসলসহ জমি তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স’ানে নতুন করে পস্নাবিত হচ্ছে ফসলসহ জমি। তবে এখন পর্যনত্ম কোন ড়্গয়ড়্গতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে পাবনার বাংলা বাজার লঞ্চঘাট, সুজানগর, নাজিরগঞ্জ, চলনবিল, বড়াল, গোমতী, চিকনাইসহ ছোট ছোট নদী ও বিলে পানি বেড়েছে।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মানদীর পানি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভেড়ামারা ও দৌলতপুরসহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে ১ সেন্টিমিটার করে। মঙ্গলবার দুপুরে পানি পরিমাপ করার পর দেখা যায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে।
কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, ভেড়ামারার পদ্মানদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ২০ সেন্টিমিটার।
এদিকে পদ্মার শাখা গড়াই নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও গড়াই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গড়াই নদীর পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্ন এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জিকে ঘাট ছাড়াও বড় বাজার এলাকার বেড়িবাঁধের পাশে বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স’ানে আশ্রয় নিয়েছেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণকু-ু জানান, এই মুহূর্তে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় কখনও ১ সেন্টিমিটার আবার কখনও ২/৩ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়িত মনিটরিং করছি। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে ৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রশাসনের পড়্গ থেকে সার্বিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।