বিশেষ প্রতিনিধি : নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপস্ন্লাই কোম্পানি লিঃ (নেসকো) রাজশাহী, চলছে অনেকটাই দায় সারা ভাবে। প্রায় ৩ বছর পূর্বে নেসকো দায়িত্ব নিলেও এখন পর্যনত্ম তেমন কোন উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি গ্রাহকের নজরে। বরং বিদ্যুৎ বিভ্রাট আগের তুলনায় বেড়েছে। এমন কোন লাইন নাই যেটা দিনে ২ থেকে ১০ বার বন্ধ হয় না। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সাফল্য এড়্গেত্রে অনেকটাই মস্নান হয়ে পড়েছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্র বলছে বিতরণ ব্যবস’া উন্নয়নে ৩৩ কেভি নতুন ২/৩ টি উপকেন্দ্র স’াপনের সিদ্ধানত্ম অনুযায়ি স’ান নির্ধারণ করে মাটি ভরাট করার পর তা পড়ে রয়েছে। সূত্র বলছে ১৩২/৩৩ কেভি মিয়াপুর গ্রীডটি সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যনত্ম কার্যকরে কোন উদ্যোগ নাই। এখনো তা গবেষণা পর্যায়েই রয়ে গেছে। সূত্র আরও জানায়, বিতরণ বিভাগ চালাতে বিতরণ কাজের অভিজ্ঞতা জরম্নরি হলেও এড়্গেত্রে তা না মানার কারণে কিছু কিছু সমস্যা সমাধানে যেখানে ২/১ ঘণ্টায় সিদ্ধানত্ম নেয়া যায় তা নিতে কয়েক দিন লেগে যায়। এমন কি প্রয়োজন ছাড়া নেসকো কর্তৃপড়্গ অফিসারদের ব্যবহারে গাড়ি কিনতে আগ্রহী হলেও অতি প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার, আইশেলেটর, ব্রেকার, পিজি ক্ল্যাম্প বা সামান্য নাট-বোল্ট কেনারও আগ্রহ দেখায় না। এমন কি নিরাপত্তার যন্ত্রপাতি কেনাতেও রয়েছে অনিহা। এগুলি অপচয় বলেই মনে করছে ম্যানেজমেন্ট। গ্রাহকের অভিযোগের প্রেড়্গিতে অপারেশনে বের হওয়া মইবাহি মান্ধাতা আমলের গাড়িগুলিই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এই গাড়ির সংখ্যা অপ্রতুল হলেও তা কেনার কোন উদ্যোগ নাই। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় লাইনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন লাইনম্যানরা। অভিযোগ রয়েছে, যাদের কাজ করা লাগে না এমন নেতাদের খুব কদর রয়েছে নেসকোতে। অবস’া এমন নেতা ছাড়া অচল নেসকো।
সূত্র বলছে, ম্যানেজমেন্টের কিছু কিছু সিদ্ধানেত্মর কারণে নতুন যোগ দেয়া ইঞ্জিনিয়ারদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। আর পুরানো যারা আছেন তাদের যাওয়ার জায়গা নাই বলে রয়ে যাচ্ছেন সব কিছু হজম করে। নেসকোতে উড়ো চিঠির কদর রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগের চিঠিতে তদনত্ম ছাড়াই শাসিত্ম দেয়া হলেও সত্য অভিযোগে শাসিত্মর নজির কম। যা নিয়ে নেসকোর ভুক্তভোগী কর্মচারীদের মধ্যে অসনেত্মাষ বিরাজ করলেও চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউ। সূত্র বলছে, তদনত্ম করা হলে বেরিয়ে আসবে এসবের সত্যতা।
কর্তৃপড়্গের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় রাজশাহী নেসকোর কাঙিড়্গত উন্নয়ন গতি পাচ্ছে না বলেই মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। নেসকোর কর্মকা- েেড়্গাভ জানিয়ে রাজশাহী রড়্গা সংগ্রাম পরিষদ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যান্ত্রিক ত্রম্নটি এবং লোডশেডিং এর বিড়ম্বনায় গ্রাহকরা দিশেহারা হলেও কর্তৃপড়্গের সেদিকে নজর নাই। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নিত্য দিনের জন দুর্ভোগ ছাড়াও শিল্প-কারখানা, চিকিৎসাসেবা, পানি সরবরাহ ব্যবস’া থেকে শুরম্ন করে অফিস-আদালতে স’বিরতা নেমে আসলেও সেদিকে কারও নজর নাই। এছাড়াও ভূতুড়ে বিল, অতিরিক্ত বিলের ভোগানিত্ম গ্রাহকের নিত্য সঙ্গী। যা নিয়ে অহরহ অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।
বিল প্রসঙ্গে নগরীর মহিষবাথান এলাকার একজন গ্রাহক বেসরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিড়্গক শামীম আরা ড়্গোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার হোক আর না হোক বিল বৃদ্ধি ছাড়া কমতে দেখা যায় না। এমনকি মিটারের সাথেও বিলের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না অনেক সময়। এ ধরনের ভূতুড়ে বিল নিয়ে প্রায় সময়ই অসনেত্মাষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে গ্রাহকদের। বিল নিয়ে ড়্গুব্ধ গ্রাহকদের অফিস পর্যনত্মও ঘেরাও করতে দেখা গেছে। অথচ বিল প্রস’তের সময় স্কীনসট নেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না এমন অভিযোগ রয়েছে। সমপ্রতি ভাটাপাড়া এলাকার গ্রাহক জনৈক ওবায়েদ জানান, তাকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হলে তিনি ভোক্তা অধিকার বরাবর অভিযোগ দিলে পরবর্তীতে তার বিল কমানো হয়। এ বিষয়গুলি নিয়ে নেসকোর জনৈক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে বলেন, নেসকোর বর্তমান ব্যবস’াপনায় কর্মীদের অসনেত্মাষ থাকলেও চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না। পরে তিনি বলেন, বিরাজমান বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে কতৃপড়্গ পদড়্গেপ নিচ্ছেন। আগামিতে বিদ্যুৎ সঙ্কট কমে আসবে বলেও তিনি উলেস্নখ করেন। ওই কর্মকর্তা আর বলেন, গরমের তীব্রতা কমে যাওয়ায় এখন লোডশেডিংও কমে গেছে। তিনি বলেন ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার পুরোটায় জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া এবং ভোল্টেজের ওঠা-নামার কারণে বিদ্যুৎ চালিত পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে গ্রাহক আর্থিকভাবে ড়্গতির সম্মুখিন হলেও এর কোন দায় বর্তাচ্ছে না বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর। বাড়তি পয়সা দিয়েও সেবা না পাওয়া এবং মাত্রা ছাড়া যখন তখন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গ্রাহকদের মধ্যে অসনেত্মাষ বেড়েই চলেছে। মানুষ বলছে কোম্পানি হওয়ার পর তারা যে উন্নয়ন আশা করেছিল তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে নেসকো। পূর্বের তুলনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েই চলেছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং নেসকোর কারিগরি উন্নয়নের বিষয়ে জানতে নির্বাহী পরিচালক (কারিগরি) এএইচএম কামালের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্ট করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।