স্টাফ রিপোর্টার: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপড়্গের অনুমতি বা কোন ধরনের ছুটি না নিয়েই কর্মস’ল ছেড়ে রাজশাহীতে এসেছিলেন বিভাগের আট জেলার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোর শতাধিক শিক্ষক। শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের নামে তাদের ডেকে আনেন রাজশাহীর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিড়্গক ড. নূরজাহান বেগম।
পরে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আঞ্চলিক কমিটির কথিত নির্বাচনে নিজেকেই সভাপতি ঘোষণা করেন প্রধান শিড়্গক। তিন বছর মেয়াদি আগের কমিটিতেও সভাপতি ছিলেন নূরজাহান বেগম। এই ঘটনায় ড়্গুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্বাচনে অংশ নেয়া শিক্ষকদের কেউ কেউ। তবে এনিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক শিক্ষক জানান, কোন ধরনের ছুটি না নিয়েই গত সোমবার রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এসে পৌঁছান বিভিন্ন জেলা সমিতির অনত্মত: একশ জন শিক্ষক। দুপুর ১২টায় নির্বাচনী বৈঠক শুরম্নর কথা থাকলেও শুরম্ন হয়েছে বেলা ১টার পর। এই বৈঠক চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যনত্ম।
ওই বৈঠকে সমিতির কমিটি গঠনের বিষয়ে আন্দাজ করেছিলেন শিক্ষকরা। তবে বিষয়টি আগে পরিস্কার করে জানাননি প্রধান শিড়্গক ড. নূরজাহান। পরে সেখানেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। তারা বলছেন, নূরজাহান বেগম পকেট কমিটি গঠন করেছেন। কিন’ এই কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি জানান নি।
আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস সাত্তার। তিনি এবারও এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। রাজশাহী জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক নগরীর পিএন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে এই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোশাররফ হোসেন বলেন, সিলেকশন নিয়ে কথা উঠতেই তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন’ তাকে যুগ্ম সম্পাদক পদ দেয়া হয়। পরে এতে তিনি সম্মতি দিয়েছেন। ছুটি না নিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, সোমবার একটি জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে তাকে পাঠিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। সেই অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য কোন ছুটি তিনি নেন নি।
নিজের ছুটি না নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার। তিনি দাবি করেন, শহরের বাইরে থেকে যারা এসেছেন তারা সকাল শিফটের শিক্ষক। আর নগরী থেকে যারা অংশ নিয়েছেন তারা বিকেলের শিফটের। সবাই বিদ্যালয় শেষ করেই বৈঠকে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ আরও তিন শিক্ষককে সাথে নিয়ে তিনিও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তারা কেউই ছুটি নেন নি। কমিটি নিয়ে কারো অভিযোগ নেই দাবি করে আবদুস সাত্তার বলেন, এই কমিটিতে মোট পদ রয়েছে ৪১টি। প্রায় সব পদই চূড়ানত্ম হয়েছে। তবে কে কোন পদ পেলেন চূড়ানত্ম তালিকা হাতে না পাওয়ায় তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েকদফা চেষ্টা করেও সমিতির সভাপতি ও রাজশাহীর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিড়্গক ড. নূরজাহান বেগমকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে এমন বৈঠক আয়োজনের কথা জানা নেই বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী।