স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা এলাকার আটটি বাণিজ্যিক পস্নট দুর্নীতি মামলায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (আরডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদারসহ ১০ জনের বিরম্নদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে দুদকের সমন্বিত রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা আল আমিন। দীর্ঘ ১৪ বছর আগের এই ঘটনায় চারজন অনুসন্ধান কর্মকর্তার তদনত্ম শেষে গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হলো।
রাজশাহী দুদক অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলার অনুমোদনের পর যে কোন সময় মামলা হবে। আমি স্টেশনের বাইরে থাকলেও মামলা হতে কোন সমস্যা নেই।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর পস্নট কেলেঙ্কারির এই মামলায় যাদের আসামি করা হচ্ছে তারা হলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব তপন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক এস্টেট অফিসার আবু বকর সিদ্দিক, হিসাবরড়্গক রোস’ম আলী, আরডিএ’র উচ্চমান সহকারী পদ থেকে চাকরিচ্যুত ও বর্তমানে অন্য দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা মোসত্মাক আহমেদ, পস্নট গ্রহীতা এনামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিড়্গক শোয়েব আহমেদ সিদ্দিকী, ডা. এসএম খোদেজা নাজার বেগম, ডা. রবিউল ইসলাম স্বপন, মাহফুজুল হক ও খায়রম্নল আলম। পস্নট গ্রহীতা নওগাঁ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় তার নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসামি এনামুল হক দুটি পস্নট নেন। পরে শোয়েব আহমেদ সিদ্দিকীও বরাদ্দের বাইরে আরও একটি পস্নট নেন।
অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর চন্দ্রিমা বাণিজ্যিক এলাকার ৫০ দশমিক ৬৭ কাঠা আয়তনের ৮টি বাণিজ্যিক পস্নট প্রতিযোগিতামূলক দরে বরাদ্দের জন্য একটি স’ানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যনত্ম আবেদন গ্রহণ করা হয়। আটটি পস্নটের বিপরীতে মাত্র আটটি আবেদন জমা পড়ে। তড়িঘড়ি করে আবেদনকারীদের প্রত্যেককে সাড়ে ৬ কাঠা করে আয়তনের একটি করে পস্নট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে অতিদ্রম্নততার সঙ্গে মাত্র ৬দিনের মাথায় ২০০৬ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সভা ডেকে পস্নট বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ সংক্রানত্ম অভিযোগকারী সুমন চৌধুরী ও দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, একটি ছিল একটি পরিকল্পিত দুর্নীতি। যে পত্রিকাটিতে বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার দেখানো হয়েছিল সেটি ছিল একটি নকল কপি। একই দিনে পত্রিকাটির যেসব কপি বাজারে ছাড়া হয়েছিল সেইসব পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তিটি ছিল না। পূর্বপরিকল্পিতভাবে নকল পত্রিকা ছাপিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি গোপন করা হয় যাতে পস্নটগুলির জন্য একাধিক আবেদনকারী না থাকে। যারা আবেদন করেছিলেন তারাও এই দুর্নীতির সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন।
সূত্র মতে, ওইসময় প্রতি কাঠা জমি মাত্র ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয় গ্রহীতাদের। যদিও ওইসময় চন্দ্রিমা এলাকার জমির কাঠামূল্য ছিল ১০ লাখ করে। অস্বাভাবিক এই কম দরে গোপনে পস্নটগুলি বরাদ্দের পর বিষয়টি নিয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন জনৈক সুমন চৌধুরী। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও চারজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা বদলের পর সম্প্রতি অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন। তিনি গত আগস্টে মামলার জন্য সুপারিশ পাঠান দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। গত সোমবার মামলার জন্য অনুমোদন আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পস্নট কেলেঙ্কারির এই ঘটনায় ২০১৪ সালে তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুস ছাত্তার আরডিএর কয়েকজন বেসরকারি সদস্যসহ মোট ১৩ জনের বিরম্নদ্ধে মামলার অনুমোদন চেয়ে সুপারিশ করেছিলেন। কিন’ বারবারই এই কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যায়।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারি বাণিজ্যিক পস্নট বরাদ্দের নিয়ম হল, একটি স’ানীয় ও একটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক দরে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই পস্নট দিতে হবে। এই নিয়ম বাণিজ্যিক পস্নটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন’ এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। দুুদক সূত্র আরও জানায়, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৮টি বাণিজ্যিক প্লটের জন্য মাত্র ৮টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীরা যে দর উলেস্নখ করেছেন সেই দরেই তাদের পস্নট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একটি পস্নটের জন্য মাত্র একটি আবেদন পড়ায় নিয়মানুযায়ী পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা উচিত ছিল যা এখানে করা হয়নি।