স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার মানুষকে অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন লাপাত্তা থাকা শতাধিক মামলার আসামি ইব্রাহিম আলীকে (৪২) পি,ডবিøউ যোগে রাজশাহীর আদালতে হাজির করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ ( আমলি আদালত-৫) আদালতে হাজির করা হলে হাজিরা শেষে আদালতের বিচারক রাসেল মাহমুদ তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারি পরোয়নায় ৮০ টি মামলার উল্লেখ আছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আদালতে শতাধিক মামলা চলমান আছে। যার সবগুলিতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।
ঢাকার লালবাগ থানায় দায়ের করা এ রকম একটি মামলার সূত্র ধরে কক্সবাজার থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করেছে। ইব্রাহিম আলীর বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী মহল্লায়। তার বাবার নাম মৃত উমর আলী। তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডির পক্ষ থেকে যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ইব্রাহিমের মুখে এখন দাড়ি রয়েছে। আত্মগোপনের আগে দাড়ি ছিল না। আগের চেয়ে স্বাস্থ্যও কমিয়েছেন এই প্রতারক, যাতে সহজেই কেউ তাকে চিনতে না পারে। গ্রেপ্তারের পর গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার থানায় ইব্রাহিমের নামে ১০৯টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তিনি তাকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে ঢাকার লালবাগ থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার সূত্রে সিআইডির একজন পরিদর্শক গোদাগাড়ী থানায় এসেছিলেন। তিনি বলেন, লালবাগ থানার মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হবে। পরে গোদাগাড়ী থানার মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে তাকে তারা রাজশাহীতে নিয়ে আসবেন।
ওসি বলেন, প্রথম প্রথম তিনি কিছু মানুষকে বিনিয়োগের পরে ডেকে ডেকে উচ্চাহারে মুনাফা দেন। এতে মানুষ তার কাছে বিনিয়োগের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এদিকে সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে ঢাকার লালবাগ থানায় ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম ও অন্যান্যদের নিকট থেকে প্রতারক ইব্রাহিম ২০১৮ সালে ইট ভাটায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ কোটি ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে ইব্রাহিম গোদাগাড়ীতে ব্রিক ফিল্ডে ইট উৎপাদন শেষে লভ্যাংশ দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এবং উচ্চ হারে সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রæতিতে গোদাগাড়ীসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকার শত শত নিরীহ লোকজনকে অর্থ বিনিয়োগ করার লোভ দেখায় এবং বিনিয়োগকৃত আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করে। অবশেষে সিআইডি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের তত্ত¡াবধানে একটি দল কক্সবাজার থেকে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে।