স্টাফ রিপোর্টার: গত ১৭ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেট খুলে দেয়ায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পয়েছে। এতে পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বাড়ছে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত জেলার ৩ উপজেলার ১৪শ’ বানভাসি পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার পদ্মাপাড়ের নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর উভয় পাড়ে গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি আরো বেড়েছে। নীচু এলাকার বাড়িঘরসহ ক্ষেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। চরের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে পানি উঠেছে পবার হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের বসরি, হাড়–পুর, সোনাইকান্দি ও বেরপাড়ার শতাধিক বাড়িতে। বিভিন্ন উপজেলার পানিবন্দী পরিবারগুলোর কাছে জরুরীভাবে ত্রানসামগ্রী পৌছানো শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, গতকাল পর্যন্ত পদ্মাপাড়ের গোদাগাড়ীর ৫শ’, পবার ৪শ’ ও বাঘা উপজেলার ৫শ’ বানভাসি পরিবারের মাঝে শুকনা ত্রানসামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরনকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়। এই ১৪শ’ পরিবারকে শীঘ্রই ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যায়ক্রমে পূনর্বাসনের আওতায় নেয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৮ দশমিক ১ মিটার। গত রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৮৭ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফরাক্কার ১০৯টি গেট খুলে দেয়ায় পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।