স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একজন শীর্ষ মাদক মাফিয়ার নাম ফুলাল। গেল আগস্টে হেরোইনসহ ধরাপড়া নেসফুল বেগম (৩০) নামে এক নারী পুলিশকে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন যে ফুলাল তার কাছ থেকে ছয় প্যাকেট হেরোইন নিয়ে গেছেন। কিন্তু হেরোইনগুলো এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার হননি ফুলালও।
এদিকে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হওয়া নেসফুলসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই অভিযোগপত্রে ফুলালের নাম নেই। মাদকের মামলাগুলোতে পুলিশ অহরহই পলাতক আসামি করলেও আসামির স্বীকারোক্তি থাকা স্বত্তে¡ও ওই মামলাটিতে ফুলালকে আসামি করা হয়নি। তাই ফুলাল এখন বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফুলালের বাড়ি গোদাগাড়ীর ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন দিয়াড়মানিকচক মধ্যপাড়া গ্রামে।
হেরোইন থাকার খবরে গত ১৬ আগস্ট দিয়াড়মানিকচক গ্রামের বাসিন্দা নেসফুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নেসফুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিকটাত্মীয় মর্জিনা খাতুন বিজলী (৪২) এবং বিজলীর ছেলে শামিম হোসেনকে (২২) বাড়ি থেকে আটক করা হয়। শামিমের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় হেরোইন। সে সময় ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ মামলা করে। তবে তখন অভিযোগ ওঠে হেরোইন ছিলো ৬০০ গ্রাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শামিম (বর্তমানে জামিনে) ও ফুলাল একসঙ্গে মাদক ব্যবসা করেন। গত আগস্টে তাদের দুজনের ১২টি প্যাকেটে এক কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইনের চালান ভারত থেকে আসে। এসব হেরোইন তারা নেসফুলের বাড়ির খড়ের পালার ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পরে নেসফুল খড়ি আনতে গেলে হেরোইনগুলো পান। বিষয়টি জানাজানি হলে ফুলাল ও শামিম নেসফুলকে কিছু টাকা দিয়ে নিজ নিজ হেরোইন নিয়ে যান। তবে এলাকায় প্রচার হয়ে যায় যে, নেসফুলের কাছেই ১২ প্যাকেট হেরোইন আছে। একপর্যায়ে খবর যায় পুলিশের কাছেও। পরে পুলিশ হেরোইন উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
তখন গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, নেসফুল তার স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফুলাল তার হেরোইনগুলো নিয়ে চলে গেছেন। তবে ফুলালকে ওই মামলায় আসামি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেছিলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে ফুলালের কাছে থাকা হেরোইন উদ্ধার হবে না। তাই তাকে আসামি করা হয়নি।
ওসি হেরোইন উদ্ধারের প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে ফুলালকে মামলার আসামি না করলেও দেড় মাসেও ফুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফুলালের কাছ থেকে হেরোইনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোদাগাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক। তিনি ইতিমধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছেন। তবে সেই অভিযোগপত্রেও ফুলালের নাম নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হেরোইনগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু ফুলাল আত্মগোপনে। তাই তাকে ধরা যায়নি। আর হেরোইনসহ আটক করা না গেলে কাউকে পলাতক আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা যায় না বলেও দাবি করেন ওসি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল খালেক বলেন, ফুলালকে গ্রেপ্তার করতে ও হেরোইন উদ্ধারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। তাই হেরোইনগুলো উদ্ধার করা যায়নি। তিনিও দাবি করেন, মাদকদ্রব্যসহ না ধরা গেলে কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না।
তিনি বলেন, ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের মামলাটির অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়েছে। অনুমোদনের জন্য সেটি গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই আদালতে দাখিল করা হবে।
জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, আসামিরা ফুলালের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন বলে তাকে পলাতক আসামি করাই যেত। অভিযোগপত্রেও তাকে অভিযুক্ত করা যাবে। কিন্তু কেন সেটা করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।