স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতার দাপটে নানা কায়দায় অগাধ টাকার মালিকদের বিরুদ্ধে ঢাকায় অভিযান শুরুর পর রাজশাহীর অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। রাজশাহীতে মাদক ব্যবসা আর ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করে কোটিপতি হওয়া অনেকেই দেশ ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভ্রমণ ভিসা ও ব্যবসায়ী ভিসা নিয়ে ইতিমধ্যে কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কেউ দ্রæত ভিসা পেতে তদবির করছেন নানাভাবে।
অভিযান থেকে নিজেকে বাঁচাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারীরা ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের অন্যতম সদস্য শীষ মোহাম্মদ ভারতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সহায়তায় এরই মধ্যে কয়েকবার ভারতে ঘুরে এসেছেন তিনি। দেশব্যাপী অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা আসার পরে দেশের শীর্ষ এই মাদক ব্যবসায়ী এবং ভারতের তালিকাভুক্ত শীর্ষ হেরোইন ও জাল টাকা পাচারকারী শীষ মোহাম্মদ আবারও ভারতে পালানোর সুযোগ খুঁজছেন। এরই মধ্যে ভারতের ভিসা পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন।
নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বেন্টুকে ইদানিং প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। পরিবহন মালিক সমিতির একজন শীর্ষ নেতাও সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সেক্টরের নিয়ন্ত্রক। আর বেন্টু রাজশাহী অঞ্চলে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ করে এখন অঢেল সম্পদের মালিক। রাজশাহীতে খবর রটেছে, তিনি স্বপরিবারে চীনে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গতরাতে আজিজুল আলম বেন্টু সোনালী সংবাদকে বলেন, দেশ ছাড়ার চেষ্টা করব কেন? দেশ ছাড়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু কেউ কেউ খবর ছড়াচ্ছে আমি নাকি দেশের বাইরে। আমি রাজশাহীতেই আছি। তবে এটা সত্য যে, কয়েকদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম।
এদিকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ছাড়াও দেশ ছেড়েছেন গোদাগাড়ীর সিঅ্যান্ডবি গড়ের মাঠ এলাকার হযরত আলী ও মাটিকাটা এলাকার সোহেল রানা। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানী হলেন শীষ মোহাম্মদ ও সোহেল রানা। শীষ মোহাম্মদ বাংলাদেশের মধ্যে শীর্ষ ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি বছর পাঁচেক আগে রাজশাহী শহরে এসে আসর গেঁড়ে বসেন। এরপর তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের একজন সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
শত শত কোটি টাকার মালিক এই মাদক ও জাল টাকার কারবারি শীষ মোহাম্মদের রাজশাহী শহরে রয়েছে একাধিক বাড়ি। চড়েন পাঁজেরো গাড়ি। গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী অবৈধ টাকার মালিকদের ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর সে ভারত পালানোর চেষ্টা করছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র মতে, শীষ মোহাম্মদ এরই মধ্যে দুইবার ভারতীয় ভিসা পেতে আবেদন করেছেন। তবে দুইবারই তার আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তবে ভিসা পেতে তিনি আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে দিয়েও তদবির করিয়েছেন। এই মাদক ব্যবসায়ী ভারতেরও তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের স্থানে নিজেকে জায়গা করে নেওয়ায় তাকে ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তার ভিসা পেতে চলছে নানা তদবির।
এদিকে অপর কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সোহেল রানা, হযরত আলী, মহিশালবাড়ি এলাকার হেলালুদ্দিন, সেলিম, শহিদুল ইসলাম ভোদল, দিয়াড় মানিকচকের শরিফুল ইসলাম মেম্বার, লোকমান, দেলোয়ার, মাহবুব, মাদারপুর এলাকার নাজিবুর রহমান, ডাইংপাড়া এলাকার হায়দার আলী, মাদারপুর এলাকার টিপু, ডাইংপাড়া এলাকার আনারুল ইসলাম, মাদারপুরের তোফাজ্জলসহ অন্যরাও এরই মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, শীষ মোহাম্মদ, সোহেল রানাসহ আরও অনেক মাদক ব্যবসায়ী এলাকাছাড়া। তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর চলছে। এরা কোথায় আত্মগোপনে থাকতে পারে, সেদিকটাও নজরে আনা হচ্ছে।