স্টাফ রিপোর্টার: গত ১৫ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পয়েছে। এতে পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং বাড়ছে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা। গতকাল হরিয়ান ইউপির ২০৫ জন বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার পদ্মাপাড়ের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মার নদীর উভয় পাড়ে গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় পানি আরো বাড়ছে। নীচু এলাকার ক্ষেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে পানি উঠেছে পবার হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের বসরি, হাড়–পুর, সোনাইকান্দি ও বেরপাড়ার শতাধিক বাড়িতে। এই বাড়িগুলোর মানুষজন কয়েকদিন যাবত পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলার পানিবন্দী পরিবারগুলোর কাছে জরুরীভাবে ত্রানসামগ্রী পৌছানো প্রয়োজন।
গতকাল রোববার পবার হরিয়ান ইউনিয়নের নদী ভাঙন ও পানিবন্দীদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের মধ্যচর, খিদিরপুর ও খানপুরের ২০৫ জনের মধ্যে ত্রাণের এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চুসহ ইউপি সদস্যগন। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরনকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৮৭ মিটার। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৮৩ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৬৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।