এফএনএস বিদেশ : সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে বহু সৈন্য ও গাড়ি আটকের দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে দলটির এক মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম জানিয়েছেন, ওই হামলায় সৌদি সামরিক বাহিনীর তিনটি ব্রিগেড আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য এ দাবি এখনো স্বীকার করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল উত্তোলন ও পরিশোধন কোম্পানি সৌদি আরামকোর দুটি প্রধান স’াপনায় হামলার দায় নিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীরা। হামলায় দার্বণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আরামকোর একটি তেল খনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর স’ানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবসি’ত সৌদি আরামকো’র আবক্বাইক্ব এবং খুরাইসে অবসি’ত দু’টি স’াপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লেগে যায়। আরামকোর শিল্পাঞ্চল নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হয়। হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি সরকার এই দাবি মানতে নারাজ। হামলার জন্য দেশ দু’টির সরকার ইরানকে দায়ী করছে। অবশ্য ইরান হামলায় যে কোনো ধরনের সংশিৱষ্টতা অস্বীকার করেছে। আরামকোর স’াপনায় হামলার রেশ কাটতে না কাটতে আবারও সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে বহু সৌদি সৈন্য আর গাড়ি আটকের দাবি করল হুতি বিদ্রোহীরা। নাজরানের এই হামলায় নিজস্ব ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুতি মুখপাত্র। হুতি পরিচালিত আল মসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, হুতিরা সৌদি সেনাবাহিনীর ‘কয়েক হাজার’ সেনা সদস্য আটক এবং কয়েকশ’ সাঁজোয়া যান জব্দ করেছে। অনেক সৌদি সেনা হামলায় মারা গেছে বলেও জানানো হয়। আল-মসিরাহ টিভিতে হুতিদের পক্ষ থেকে কর্নেল ইয়াহিয়া সারিয়া জানান, সৌদি বাহিনী সংঘাত শুর্ব হওয়ার পর থেকে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় এ হামলায় ব্যাপক পরিমাণ জানমালের ক্ষতির মুখে পড়েছে। যাদেরকে বন্দী করা হয়েছে তাদেরকে স’ানীয় সময় রোববার আল-মসিরাহতে প্যারেড করিয়ে দেখানো হবে বলেও জানান তিনি। কিন’ সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি নিশ্চিত করেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস’া রয়টার্স।