সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: সাপাহার উপজেলায় অসংখ্য দাদনব্যাবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে অনেক সাধারণ ব্যাবসায়ী, ৰুদ্রব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। আর দীর্ঘদিন ধরে এই দাদনব্যবসা চলতে থাকায় বিষয়টি যেন সবার গা সওয়া হয়ে গেছে। এ বষিয়ে কেউ কোন নজর না দেয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে দাদনব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা সদরেই রয়েছে প্রায় অর্ধশত দাদনব্যাবসায়ী। এদের খপ্পরে পড়ে ধারণাতীত চড়া সুদ দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। উপজেলা সদরে অবসি’ত মিলন সুতাঘরের স্বত্বাধিকারী মিলন হেসেন নামের এক সুতা, নেট জাল ও সেলাইমেশিন ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তার ব্যাবসার কাজের জন্য উপজেলার তুলশীপাড়া গ্রামের এক দাদনব্যাবসায়ীর নিকট হতে ব্যাংকের ফাঁকা চেকে স্বাৰর করে ৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। সে সময় দাদনব্যাবসায়ীর টাকার সুদ ছিল প্রতি মাসে প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা। সে হিসেবে ব্যবসায়ী মিলন হোসেন ওই দাদন ব্যাসায়ীকে প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা করে ২০১৯ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সর্বমোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা সুদ হিসেবে দিয়ে এসেছেন। বর্তমানে ওই দাদনব্যাবসায়ী তার মূলধন ৪ লাখ টাকা ফেরত নিতে চাইলে একসঙ্গে এত টাকা দিতে মিলন অপারগতা প্রকাশ করেন। এই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এরই মধ্যে ওই দাদনব্যবসায়ী তার নিকট থাকা ফাঁকা চেক দিয়ে তার বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মামলা দায়ের করবেন বলে হুমকি দিয়ে চলেছে। বর্তমানে এ হুমকির পর ব্যবসায়ী মিলন হোসেন দোকানপাট বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে। অপর এক দাদনব্যাসায়ীর খপ্পরে পড়ে কয়েক বছর পূর্বে উপজেলার শিরন্টি গ্রামের সালেক নামের এক ৰুদ্র ওষুধব্যাবসায়ী তার বশতবাড়ি, জমিজমা সম্পূর্ণ শেষ করে এখন এলাকা ছেড়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র জীবনযাপন করছেন। সমসাময়িক সময়ে শিরন্টি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের নাসির মাস্টার নামের এক ব্যক্তিও সংসার জীবনের তার সব কিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব জীবনযাপন করছেন। দাদনব্যবসায়ী কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দাদন নিয়ে ৯ লাখ টাকা সুদ দেয়ার পরেও চেকের মামলার হুমকির মধ্যে দিনপাত করছেন ম-ল জুয়েলার্সের মালিক হুমায়ন। সম্প্রতি ওই দাদনব্যবসায়ী রাস্তা থেকে জোর করে তার একটি ট্রাক্টর আটক করে সুদের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আদায় করার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া তার খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে দাদনব্যাবসায়ীরা প্রতিদিনের হিসাব নিকাশ প্রতিদিন করার জন্য লোক নিয়োগ করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন মার্কেটে ভাড়া অফিস ঘর খুলে সন্ধ্যে বেলায় তাদের অর্থের হিসাব নিকাশ করে আসছেন। বর্তমানে উপজেলায় দাদনব্যবসা যেন একটি বৈধ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। দাম্ভিক্যের সাথে তারা দাদনব্যাবসা চালিয়ে আসছেন। বেশ কিছু চতুর ব্যক্তি দাদনব্যাসাকে বৈধ ব্যবসায় রূপ দেয়ার কৌশল অবলম্বন করে বেশ কিছু সংগঠন তৈরি করে সামজ সেবা অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সমাজের সেবা দূরের কথা প্রকাশ্যে তারা অফিস খুলে তাদের দাদনব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।