স্টাফ রিপোর্টার: তানোর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভবনের নির্মাণ কাজ এখন বন্ধ। কয়েক দিন আগে নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর নিজের জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্র্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এলজিইডি’র অধিন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ আরম্ভ হয় গত ২০ ফেব্রয়ারি। নির্মাণ কাজের সময়সীমা ছিল আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২০। এর প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ২কোটি৪৪লাখ৪৯হাজার১৭৯,০০ টাকা। যার চুক্তি মূল্য হচ্ছে ২,০৬৪২,৬২.০০ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই আলোকে তানোর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধো কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি জমি থানা পর্যায়ে না থাকায় তানোর মৌজায় জেএল নং ১৪৪ দাগ নং আরএস ১৪৬১ জমি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের সুপারিশ করা হয় । সে অনুযায়ী উক্ত জমি একোয়ার করে সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়। সে অনুযায়ী সেখানে ওয়ার্ক ওয়ার্ডার প্রাপ্ত কন্ট্রাক্টর কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ চলিয়ে আসছিলেন । হঠাৎ করে সেখানে জমির মালিকানা দাবি করে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর নামে রাতের আঁধারে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিলে কন্ট্রাক্টর কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে তানোর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে অরিশ্চয়তা দেতখা দিয়েছে।
তানোর উপজেলাধীন তানোর মৌজার ৩০৬ নং খতিয়ানের ১৪৬১ নং দাগের ০.০৯ একর জমি অধি গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে মর্মে প্রস্তাবসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন তানোর সহকারি ভূমি অফিসার। এতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক সুপারিশও করেন।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ করা হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রণালয়ের ৫/০২/২০১৫ তারিখের ৮৪ নং স্মারকপত্র মোতাবেক খাস জমি/ বিভিন্ন সংস্থার অব্যবহৃত জমি বা পরিত্যক্ত জমিকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ জমি না পাওয়া গেলে কেবল মাত্র তখনই সেখানে সীমিত পরিসরে অধিগ্রহণের জন্য অর্থের সংস্থান রয়েছে মর্মে পত্রে জানানো হয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় রাজশাহীকে ১২/০৩/২০১৫ তারিখের ৬০৮ (১০) সংখ্যক স্মারক উপজেলা সদরে মুক্তিয়োদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য পত্র পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নিকট হতে প্রতিবেদন নেয়া হয়। প্রাপ্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সেখানে কোন নিষ্কন্টক খাস জমি না পাওয়ায় উক্ত পত্রের আলোকে এ কার্যালয়ের কানুনগো এবং সার্ভেয়ার সরেজমিনে তদন্ত করে ১৪৪ নং তানোর মৌজার ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩০৬ নং খতিয়ানের ১৪৬১ নং দাগের ০.০৯ একর জমির উপর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তারই বিত্তিতে অত্র জমিতে বর্তমানে অন্য কোন উন্নয়নমূলক কাজ হবার সম্ভাবনা নেই মর্মে জানানো হলে তানোর উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস হতে প্রস্তাবিত সমশ্রেণির জমির গড় বাজার মূল্য সংগ্রহ কারা হয়।
এমতাবস্থায় অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা ১৯৯৫ এর ৩.০ আনেুচ্ছেদে (ঝ) উপ-অনেুচ্ছেদ অনুযায়ী সাব রেজিস্ট্রার রাজশাহীর তানোর কার্যালয় হতে সংগৃহিত গড় বাজার মূল্য সংক্রান্ত এ কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী তানোর মৌজার প্রতি শতক জমির মূল্য ৫৫,৫০৪ /-টাকা করে ০.০৯ একর জমির গড় মূল্য ধরা হয় ৪, ৯৯,৫৩৬/-( চার লক্ষ নিরানব্বই হাজার পাঁচশত ছত্রিশ) টাকা। ক্ষতিপূরণ ৫০% সহ সর্বমোট ৭,৪৯,৩০৪ টাকা(সাত লক্ষ উন পঞ্চাশ হাজার তিনশত ছত্রিশ) টাকা ধরা হয়।
এর সম্পর্কে তানোর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (অতি:দা:) মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান এক্ষুণে ১৪৪ নং তানোর মৌজার ৩০৬ নং খতিয়ানের ১৪৬১ নং হাল দাগের ০.৫২ একর কাত এর ০৯ একর জমি অধীগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে মর্মে জমির আরএস রেকর্ডীয় মালিক ছোলেমান খান প্রত্যয়নপত্রও দেন। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে তানোর পৌর সভার কোন ওজোর আপত্তি নেই মর্মে জানান।
এ সম্পর্কে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তানোর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, আমরা ভূমি অধিগ্রহণের সামগ্রীক কার্যক্রম সম্পন্ন করেই তানোর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম। আমরা সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। যদি উক্ত জায়গার জন্য টাকা লাগে আমরা তার ব্যবস্থা করবো এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করবো বলে জানান।
সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাদুল মাষ্টারে কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহ্াজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিকানা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সাইন বোর্ড চাঙ্গিয়ে দেয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেয়া বলে জানান।