স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তার মুক্তি আদায় করতে হবে। তাই এখন থেকে তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলের নেতারা রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মীদের আহŸান জানান।
বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও এর আয়োজন করা হয়। গতকাল রোববার বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পূর্বপাশের রাস্তায় পাঠানপাড়া এলাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন হেঁটে বাথরুমে যেতে পারেন না। বসে খেতে পারেন না। ১৮ মাস ধরে তাকে টেলিভিশন দেখতে দেয়া হয় না। দুটো মাত্র পত্রিকা দেয়া হয়। কারও সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় না। তার মুক্তি হবে না। আদায় করতে হবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, এক বছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা পার হয়ে গেছে সুইজ ব্যাংকে। তার চেয়েও বড় অপরাধ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ভোট ডাকাতি করে জনগণকে তার ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে বিরত রাখা যাবে না। পুলিশের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে থেকে ২৬ লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে। ১ লাখ মামলা করা হয়েছে। তালিকা করে ১০০ জনের নাম দেয়া হয়েছে। বাকি ৭০০ অজ্ঞাতনামা। সে অজ্ঞাতনামায় একজনকে ধরে এনে বলে, দাও। তা না হলে চালান। এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি মানুষের নামে মামলা আছে। যে বাংলাদেশের মানুষ আগে মামলা চিনত না, কোর্টের বারান্দায় কোনো দিন যাননি, তার বিরুদ্ধেও মামলা আছে। কীসের মামলা? নাশকতার মামলা। নাশকতা কী ও নিজেও জানে না। বোঝেও না। অভিযোগ কী? ষড়যন্ত্র করছে। এসব বাদ দেন। ওসব দিন শেষ। গোটা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখুন, জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, কামরুল মনির, হারুনার রশীদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, মোরতাজুল করিম বাবলু, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চেয়ারপাসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। সমাবেশে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তবে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সমাবেশে যোগ দিতে তাদের বেগ পেতে হয়।