এফএনএস: একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৯৮ জন আর ঢাকার বাইরে রয়েছেন ২৪৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এই তথ্য জানা গেছে। মধ্য জুলাইয়ের পর থেকে যেভাবে রোগী সংখ্যা বেড়েছিল, তাতে গত ১৯ বছরের মধ্যে ডেঙ্গু ডায়াগনোসিস হওয়ার পর থেকে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় গত আগস্ট মাসে। একমাসে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৬৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে সেপ্টেম্বরকে ডেঙ্গুর পিক টাইম ধরা হলেও মাসটির শুরু থেকেই নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব থেকে জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৬০ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ১০২ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল ২৫৮ জন। ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৬০। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ৮২ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল ২৭৮ জন। ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন রোগী ছিল ৩৮৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ১১৭ জন আর ঢাকার বাইরে ২৭১ জন। ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন রোগী ছিল ৩৯৮ জন, এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ১৩১ জন, আর ঢাকার বাইরে ছিল ২৬৭ জন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন রোগী ছিল ৪৬৯ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ১৩১ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল ৩৩৮ জন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন রোগী ছিল ৪৬১ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ১৪৩ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল ৩১৮ জন। আবার গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফরেছেন ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ঢাকার হাপসাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৪৪ জন আর ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগসহ মোট আট বিভাগের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৩০জন। কন্ট্রোল রুম জানায়, বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন এক হাজার ৫৭৭ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছেন ৫৮৩ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯৯৪ জন। সারাদেশে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা ৯৮ শতাংশ। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩১ রোগী মারা গেছেন বলে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ডেথ রিভিউ কমিটিকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ জন্য ডেঙ্গুতে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কমিটি।