কাজী নাজমুল ইসলাম : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজশাহীতে আবারো প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ১৫ দিন ভ্যাপসা গরমের পরে গত ৭ দিন যাবত মেঘলা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। এরফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে রোপা-আমনে মাজরা পোকার আক্রমণের সাথে কিছু এলাকায় ধান গাছের গোড়ায় পচন (খোল পোড়া) দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাষিরা আমনের ফলন কমে যাবার আশঙ্কা করছেন।
আমন চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা সাধারণত আমন চারা তৈরি ও রোপণ করেন বৃষ্টির পানিতে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আষাঢ় মাসে বরেন্দ্র অঞ্চলে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েন আমন চাষিরা। পানি না থাকায় অনেক চাষি সেচ দিয়ে চারা তৈরি ও রোপণ করেন। এতে বাড়তি খরচ পড়েছে চাষিদের। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবং সরকার চাষিদের বোরো মৌসুমের ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় ভালো দাম পাবার আশায় চাষিরা আমন চাষে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে জেলায় আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
কিন্তু আবারো বিড়ম্বনায় পড়েন চাষিরা। টানা ১৫ দিন খরার পরে প্রায় ৭ দিন যাবত মেঘলা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে গতকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৭ দিনে প্রায় ১শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। খরায় কোন কোন এলাকায় আমনে একদিকে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়, অন্যদিকে খোল পচা (খোল পোড়া) রোগ। চাষিরা পোকার আক্রমণ ও রোগ থেকে ফসল রক্ষায় টিল্ট, খলিকুর, কারটাফসহ নানা প্রতিষেধক ব্যবহার করছেন। কৃষিবিদরা বলছেন, খরার কারণে দেখা দেয়া মাজরা পোকা বৃষ্টির ফলে কমতে শুরু করলেও টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে খোল পচা রোগ দেখা দিতে শুরু করেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী, কেশবপুর, গোগ্রাম, বসন্তপুর, দেলসাদপুর, শিমলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় মাজরা পোকা ও পচনের হাত থেকে রোপা -আমন বাচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। পাকড়ীর মোহনপাড়ার কৃষক পলাশ হোসেন ১০বিঘা জমিতে রোপা-আমন চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৫বিঘা জমিতে মাজরা পোকা ও পচন দেখা দিয়েছে। তিনি ফসল রক্ষায় নানা প্রতিষেধক ব্যবহার করছেন।
পবার কর্ণহারের কৃষক জাইদুর রহমান ৩০ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তার কিছু জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কিটনাশক ব্যবহারে এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। তার এলাকার চাষিরা সার্বক্ষণিক যতœ নেয়ায় আমন আবাদ এখনও ভালো আছে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সামশুল হক বলেন, কিছু এলাকায় মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল, যা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মেঘলা আকাশ ও টানা বৃষ্টির কারণে খোল পচা রোগ দেখা দিচ্ছে। এসব প্রতিরোধে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে আমন চাষিদের সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমন আবাদ ভালো আছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ৯৮১ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫৫ হেক্টরে। গতবছর আবাদ হয়েছিল ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টরে। আমন আবাদ এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং গতবছরের চেয়ে আবাদ বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, প্রায় ৭ দিন যাবত লেট মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এখানে বৃষ্টি হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এখানে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।