এফএনএস: ঢাকার ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশের পর নিরুদ্দেশ যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেফতারে ‘শিগগিরই’ সফল হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের এই নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করলেও স্বীকার করছে না বলে গণমাধ্যমে খবর আসার প্রেক্ষাপটে গতাকল শনিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
স¤্রাটকে কি আটক করা হয়েছে- প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখুন,তার সম্বন্ধে আপনারা অনেক কিছুই বলছেন। আমরা যেটা বলছি, সে স¤্রাট হোক, যেই হোক, অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় নেব। আমি এটা এখনও বলতেছি, স¤্রাট বলে কথা নয়, যে আইনের … তাকে আমরা নেব। আপনারা দেখবেন, খুব শিঘ্রই দেখবেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আলোচনায় রয়েছে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক স¤্রাটের নাম। সেদিন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভ‚ইয়া গ্রেফতার হওয়ার পর সদলবলে কাকরাইলে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে রাতভর ছিলেন স¤্রাট। এরপর তাকে গ্রেফতারেও অভিযান চালানো হবে বলে খবর প্রকাশের মধ্যে নিরুদ্দেশ রয়েছেন এই যুবলীগ নেতা। কার্যালয়েও তিনি নেই, বাড়িতেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। র‌্যাবের অভিযানের সময় মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের ভেতরে স¤্রাটের বিশাল ছবি দেখা গিয়েছিল। ওই ক্লাবের ক্যাসিনো তিনি চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় যে ক’টি ক্যাসিনো চলছিল, তা থেকেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা যুবলীগ নেতা স¤্রাটের কাছে যেত বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। স¤্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ক্যাসিনো বন্ধে যে অভিযান, তা র‌্যাবই পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। শুরুতে র‌্যাব এই অভিযানে নামলেও পরে পুলিশও কয়েকটি ক্লাবে অভিযানে যায়। পুলিশ ঢাকার তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বেআইনি কিছু না পাওয়ার কথা জানালেও পরে সেখানে অননুমোদিত মদ ও বিয়ার পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। এছাড়া ক্যাসিনো পরিচালনায় জড়িত বিদেশিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে; এজন্য দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত হতে হয়েছে।
এসব কারণে পুলিশের ওপর আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ক্লিয়ার করে দিতে চাই, যেহেতু অভিযানটির শুরু করেছে র‌্যাব এবং আমরা বলছি ক্যাসিনোর এগুলো র‌্যাবই করবে। অযথা তথ্য ছাড়া কাউকে যেন হ্যারাস না করা হয়, সেজন্যই আমাদের এ পরিকল্পনা। আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, এজন্য আমরা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছি। আপনারাও দেখছেন। এই অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধ ঘটছে বা যারা অপরাধ ঘটাচ্ছে, এমন খবর যখন পাব, তখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এটা কোনো শুদ্ধি অভিযান না। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা করার প্রয়োজন, তাই আমরা করছি।