এফএনএস: আসামের নাগরিকপঞ্জিতে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়া নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে দুই নেতার বৈঠকে মোদী এই বার্তা দেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় দুপুরে লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলের কেনেডি রুমে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে এখন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন তারা। বৈঠক শেষে মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, যতগুলো আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে সেগুলো সবই নেত্রী তুলেছেন এবং এর ভালো সদুত্তর পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য হল আমাদের যে কনসার্ন যেমন ধরুন, আমাদের কনসার্ন হচ্ছে এনআরসি, আমাদের কনসার্ন হচ্ছে নদী- সবগুলোই উঠেছে। মোদী বলেছেন, আমাদের দুই দেশের যে সম্পর্ক এই ছোটখাট বিষয় আমরা সহজে টেক কেয়ার করব, আমার লোকেরা কাজ করবে এবং দে উইল ফিক্স ইট।
তিনি বলেছেন, এগুলো নিয়ে আপনাদের কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। উই উইল টেক কেয়ার ইট। প্রায় চার বছর ধরে যাচাই-বাছাইয়ের পর ভারতের আসাম সরকার স¤প্রতি ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স-এনআরসির (নাগরিকপঞ্জি) চ‚ড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন জায়গা পেয়েছেন, বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ঢাকায় এসে বলেছিলেন, এই তালিকা ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে তারপরে আসামের অর্থমন্ত্রী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের ১৪-১৫ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে ফেরত নিতে বলার পরিকল্পনার কথা জানালে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে কোনো চিন্তা করার কারণ নেই। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই- প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনও কারণ নেই। এটা বলতে পারেন। উনি (মোদী) বলেছেন যে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে এত ভালো সম্পর্ক, এর প্রেক্ষিতে এই ছোটখাট অনেকগুলো ইস্যু আছে, এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো রকমের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। বৈঠককে ‘মোটামুটি একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আগামি ৫ অক্টোবর শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার পর বৈঠকে বসেন দুই নেতা।
দুই দেশের সম্পর্ক খুবই উষ্ণ মন্তব্য করে মোমেন বলেন, দুই ভাই-বোনের মধ্যে কোনো ধরনের প্রটোকল দরকার হয় না। এদিকে, এই বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চমৎকার বৈঠক। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, বিশেষত কীভাবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়।