রিমন রহমান : রাজশাহীতে এগিয়ে চলছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণের কাজ। হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় এই শহরের ল²িপুরস্থ বাকির মোড় এলাকায় হার্ট ফাউন্ডেশনের নিজস্ব জমিতে বিশেষায়িত এই হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীত্বে (পিপিপি) হাসপাতালটি গড়ে উঠছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষে চালু হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে হৃদরোগীদের। আর তারা পাবেন উন্নত সেবা।
রাজশাহীতেও দিনকে দিন হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। পরিস্থিতি এমন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের ইনডোরে শয্যা পান না রোগীরা। হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝে এমনকি বাইরের বারান্দায় পর্যন্ত হৃদরোগীদের শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। অথচ একটু জোরে শব্দও হৃদরোগীদের জন্য বিরাট ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীতে হার্ট ফাউন্ডেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংগঠন রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশন বাকির মোড় এলাকায় তাদের নিজস্ব ভবনে ছোট পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সংগঠনটির সদস্যদের আগ্রহের ভিত্তিতে পিপিপি’র মাধ্যমে এখানে আধুনিক হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ নিয়ে সমাজসেবা মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটির নাম ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল, রাজশাহী’।
গত বছরের ৪ জুলাই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের পরও নানা জটিলতার কারণে বরাদ্দ করা অর্থ চলে যাচ্ছিল অন্য জেলায়। বিষয়টি জানতে পেরেই তৎপরতা শুরু করেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এর ফলে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে যায় রাজশাহীতেই, শুরু হয় নির্মাণ কাজ। এখন এই হাসপাতাল নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর মানুষ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাজশাহীতে এই হাসপাতাল গড়ে তুলতে আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে তখন আমার পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দায়িত্বে থাকায় কাজ অনেকটা সহজ হয়েছে। এখন একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলেও পরবর্তীতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। হৃদরোগীদের স্বার্থে সেই প্রচেষ্টা আমার অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হার্ট ফাউন্ডেশনের নিজস্ব এক বিঘা জমিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতালটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে দশতলা ভিত বিশিষ্ট পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী দুই ধাপে অপর পাঁচতলা নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ৬০ ভাগ এবং রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশন ৪০ ভাগ অর্থের জোগান দেবে। হাসপাতালটি হবে ১০০ শয্যার।
হাসপাতালে একটি ক্যাথল্যাব এবং একটি কার্ডিয়াক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হবে। এছাড়াও আটটি শয্যা নিয়ে থাকবে একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ছয় শয্যার একটি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ১০ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), ছয় শয্যার পোস্ট করনারী কেয়ার ইউনিট (পিসিসিইউ)। থাকবে ৫৩টি সাধারণ শয্যা এবং ১৭টি কেবিন।
গত শুক্রবার বিকালে ল²িপুরস্থ বাকির মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলছে। কাজের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন শামিম হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানালেন, বর্ষা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৩৬০টি পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি পাইলের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট। দু’একদিনের মধ্যেই পিলারের জন্য মাটি খননের কাজ শুরু হবে। আগামী ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রওশন বলেন, হাসপাতালে হার্টের এনজিওগ্রাম, হার্টে রিং পরানো এবং ওপেন হার্ট সার্জারিসহ সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। এই হাসপাতালে বিভিন্ন বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এবং হাসপাতালের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। রোগী যদি দরিদ্র হন তাহলে সব ধরনের চিকিৎসা পাবেন বিনামূল্যে।
রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলার উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীর বলেন, গত বছরের অক্টোবরে হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এই এক বছরে যতটুকু কাজ হওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন। এই হাসপাতাল রাজশাহী অঞ্চলের হৃদরোগ চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই সমাজসেবা কর্মকর্তা।