বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অধ্যাপক বিথীকা বণিককে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের বিশেষ ক্ষমতাবলে তাকে প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক প্রভাষ কর্মকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অধ্যাপক বিথীকা বণিককে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আঞ্জুমান আরাকে সাময়িকভাবে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারের তৃতীয় তলায় থাকেন বঙ্গমাতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিথীকা বণিক। ওই বাড়িতে তার ভাই শ্যামল বণিকও থাকতেন। ফজিলাতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী প্রাধ্যক্ষ বিথীকা বণিকের সন্তানকে পড়াতেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রী বিথীকা বণিকের বাড়িতে পড়াতে যান। রাতে বৃষ্টি হওয়ায় প্রাধ্যক্ষের বাড়িতেই থাকেন ওই ছাত্রী।
পরে রাত তিনটার দিকে প্রাধ্যক্ষের ছোট ভাই শ্যামল বণিক ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ওই শিক্ষার্থী নিজেকে রক্ষার জন্য অন্য একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করেন দেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার এক বন্ধুকে বিষয়টি জানালে তার বন্ধু জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ ফোন করে ঘটনাটি জানায়। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শ্যামল বণিককেও আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রী শ্যামল বণিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে পুলিশ তাকে আদালতের ম্যাধমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।