স্টাফ রিপোর্টার: গত প্রায় ১৫ দিন যাবত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুসহ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মার নদীর উভয় পাড়ে গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। নীচু এলাকার খেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম শীতের সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে পানি উঠেছে পবার হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের বসরি, হাড়–পুর, সোনাইকান্দি ও বেরপাড়ার শতাধিক বাড়িতে। এই বাড়িগুলোর মানুষজন কয়েকদিন যাবত পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, এই পরিবারগুলো মানবেতর দিন কাটালেও এখনও কোন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পায়নি।
এদিকে, হরিয়ান ইউনিয়নের চর ডুবে যাওয়ায় সহ¯্রাধিক গরু নিয়ে শ্যামপুর এলাকার বাঁধে কয়েকদিন থেকে আশ্রয় নিয়েছেন কিছু পরিবার। তারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাঁধেই অবস্থান করছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৭৯ মিটার। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।