এফএনএস: আমরা এই দেশকে দুর্বৃত্তদের দেশে পরিণত হতে দেব না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যখন যেখানেই রাষ্ট্রবিরোধী, শৃঙ্খলাবিরোধী যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা চলবে, সেখানে পুলিশ ও র‌্যাব একযোগে কাজ করবে। সব সময় সব অভিযানে সব ধরনের অ্যাভিডেন্স পাওয়া যাবে, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সজাগ থাকব।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে হোটেল নরডিক লিমিটেডে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সক্ষমতা সংবলিত ‘বিশেষায়িত মহড়া’র আয়োজন করে র‌্যাব। ওই মহড়া শেষে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সচিব। স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থানের অপচেষ্টা হয়েছিল। সেটাকে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে আমাদের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দিয়েছে। আমাদের র‌্যাপিড অ্যাকশন বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত চৌকস। তাদের অনেক ক্যাপাসিটি বিল্ডিং হয়েছে।
থ্রি ডাইমেনশনাল কমান্ডো অপারেশন পরিচালনার মহড়া আজ অনুষ্ঠিত হলো। যাতে ভবিষ্যতে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি, দুর্বৃত্ত যদি মানুষকে জিম্মি করে যেকোনো হোটেল, বাসা-বাড়ি, যেখানেই হোক না কেন, তাদের কার্যক্রমকে কঠোরভাবে দমন করা যায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সে লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ব্যাটালিয়নসহ সবাই মিলে আমরা এই দেশটাকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিগণিত করার জন্য, রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজকে আপনারা সবাই দেখছেন বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নশীল দেশের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে’,- বলেন তিনি।
র‌্যাবের কমান্ডো অভিযানের মহড়া সম্পর্কে সচিব বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী ভবিষ্যতে আমরা এদেশকে জঙ্গিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়া করাতে পারব। র‌্যাবকে ধন্যবাদ, আজকে এরকম একটি জঙ্গিবাদবিরোধী কমান্ডো অভিযানের মহড়া পরিচালনা করার জন্য। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন রোহিঙ্গাদের কাঁটা তার দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে, বড় ধরনের একটা সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হচ্ছে। এই পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? পুলিশ নাকি র‌্যাব। টার্কিশ মডেলটা অনুসরণ করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নিরাপত্তা ইস্যুতে। কোন অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি আমরা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, প্রায় ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা ছোট্ট একটা এলাকার মধ্যে বসবাস করছে। অনেক দেশে কিন্তু ১১ লাখ মানুষই নেই। দক্ষিণ চট্টগ্রামের জেলা কক্সবাজার ও টেকনাফের আশপাশ এলাকায় সুন্দর স্কিল ম্যানেজমেন্টের দরকার আছে। তাদের (রোহিঙ্গা) তো আমরা এভাবে দীর্ঘদিন খোলামেলা অবস্থায় রাখতে পারি না। তারা মানবপাচারের শিকার হতে পারে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যেতে পারে, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধজনক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। প্রত্যেকটা কাজে আমরা সমন্বিতভাবে সবাই মিলে করতে চাই। দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রথম দায়িত্ব পুলিশের। বাকিরা সবাই পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে। লোকাল প্রশাসনকে সবাই সহযোগিতা করবে। যখন যে বাহিনীর সহযোগিতা-সহায়তা দরকার সেটা নিয়ে আমরা সুন্দর একটা স্কিল ম্যানেজমেন্ট করতে চাই। বহু বছর ধরে ক্যাসিনো চলছে বলে আমরা জেনেছি। এখান থেকে নিয়মিত পুলিশ বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চাঁদা যেত, এ ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টাল কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্তত আইজিপি, র‌্যাব ডিজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।