বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনেছা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিথিকা বণিকের বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনভর দফায় বিক্ষোভ করেন তারা। তারা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিথিকা বণিককে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অপসারণ, তার ভাই শ্যামল বণিকের দ্রæত শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করে।
বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অধ্যাপক বিথিকা বণিকের পদত্যাগের দাবিসহ ছয় দফা দাবি জানান। বিথিকা বণিকের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ¯েøাগান দিতে থাকেন। সেখানে প্রায় আধাঘন্টা অবস্থানের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন।
এ ঘটনার বিচার চেয়ে ‘জোহা স্যারের পাঠশালায়, ধর্ষকের ঠাই নাই’, ‘ধর্ষকের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট এ্যাকশন’, ‘ধর্ষকের ঠাই নাই, এই বাংলায়’ এসব ¯েøাগান দিতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান আন্দোলনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে দুপুরে শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান। তিনি শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানান। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করে ফিরে যায়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারের তৃতীয় তলায় থাকেন বঙ্গমাতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিথীকা বণিক। ওই বাড়িতে তার ভাই শ্যামল বণিকও থাকতেন। ফজিলাতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী প্রাধ্যক্ষ বিথীকা বণিকের সন্তানকে পড়াতেন। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওই ছাত্রী বিথীকা বণিকের বাড়িতে পড়াতে যান। রাতে বৃষ্টি হওয়ায় প্রাধ্যক্ষের বাড়িতেই থাকেন ওই ছাত্রী। পরে রাত তিনটার দিকে প্রাধ্যক্ষের ছোট ভাই শ্যামল বণিক ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ওই শিক্ষার্থী নিজেকে রক্ষার জন্য অন্য একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করেন দেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার এক বন্ধুকে বিষয়টি জানালে তার বন্ধু জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ ফোন করে ঘটনাটি জানায়। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শ্যামল বণিককেও আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওই ছাত্রী শ্যামল বণিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে পুলিশ তাকে আদালতের ম্যাধমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।