পুঠিয়া প্রতিনিধি: পুঠিয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তারের অসদাচরণের শিকার হয়েছেন ৩ শিশুরোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তাদের বাচ্চাদের কর্তব্যরত ডাক্তার দেখেননি। এমন কি ডাক্তারকে রোগীদের দেখে যাওয়ার অনুরোধ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিলের প্যাড তাদের মুখের ওপর ছুঁড়ে মেরে চেম্বার থেকে বেরিয়ে যান। তবে অভিযুক্ত ডাক্তার প্যাড ছুঁড়ে মারার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাদের চিকিৎসা না দিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি তার ভুল স্বীকার করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার সময় পুঠিয়া হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফজলুর রহমানের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেও চিকিৎসা না পেয়ে উল্টো ডাক্তারের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এক অভিভাবক। রোগীর সঙ্গে একজন ডাক্তারের এমন আচরণের সমালোচনা করে নিন্দা জানানো ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই পোস্টে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শি জিউপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহিন জানান, তার আড়াই মাস বয়সের পুত্র সন্তানের সর্দি জ্বর হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি পুঠিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কাউন্টারে ৫ টাকা পরিশোধ করে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলুর রহমানের চেম্বারের সামনে গিয়ে লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর হয়ে যাওয়ায় তার আড়াই মাস বয়সের শিশু সন্তানসহ ৩টি শিশুকে না দেখেই ডাক্তার তার সময় শেষ বলে চেম্বার থেকে উঠে আসতে থাকেন। শাহিন বলেন, এ সময় আমরা ডাক্তারকে অনুরোধ করে বলি, ‘স্যার আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি, আর মাত্র ৩ জন বাচ্চা আছে, তাদের দেখে যান’। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ফজলুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিলের ওপরে থাকা ওষুধ কোম্পানির নোট প্যাড তুলে নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের লোকজনের মুখের ওপর ছুঁড়ে মেরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) চিকিৎসক ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও হাসপাতালের টিএইসও নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি ডাক্তার ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি। চেম্বারে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে তিনি আমার কাছে স্বীকার করেছেন । তাদের চিকিৎসা না দিয়েই তিনি চলে গিয়েছিলেন। তবে কাউকে তিনি প্যাড ছুঁড়ে মারেননি। এর জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রোগীর সঙ্গে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুপুর হওয়ার সাথে রোগী রেখে চলে যাওয়ার কোন বিধান নেই। রোগী থাকলে তাদের চিকিৎসা দিয়েই যেতে হবে।