এফএনএস বিদেশ: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে প্রায় ২০ লাখ শিশু স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। তারা জানায়, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ লাখ শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৭ লাখ শিশুর শিক্ষা ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে কারণ শিক্ষকরা ২ বছর ধরেই কোনও বেতন পান না।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। ইয়েমেনে ইউনিসেফ প্রতিনিধি সারা বায়েসলো নয়ন্তি বলেন, সহিসংতা, স্থানচ্যুতি ও স্কুলগুলোতে হামলার কারণে বহু শিশু স্কুলে যেতে পারে না। এই শিশুরা ভয়াবহ নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের অনেকেই যুদ্ধে যোগ দিতে কিংবা বাল্য বিয়েতে বাধ্য হচ্ছে। বেড়ে গেছে শিশু শ্রমও।
সংস্থাটি জানায়, সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশটির প্রতি পাঁচটি স্কুলের একটি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই সংঘাত ইয়েমেনের ইতোমধ্যে ভঙ্গুর হয়ে পড়া শিক্ষা পদ্ধতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। জাতিসংঘ ইয়েমেনের মানবিক সংকটকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছে।