এফএনএস: দুর্নীতি-অপকর্মের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সুযোগ নিয়ে কোনো অশুভ শক্তি যেন চক্রান্ত করতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভায় এ আহŸান জানানো হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, কিছু দুর্বৃত্তের কারণে সরকারের অর্জন ¤øান হয়ে যাবে এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অভিযান শুরু করেছেন, ১৪ দল তার সঙ্গে আছে। তবে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এর সুযোগ নিয়ে কোনো অশুভ শক্তি যেন চক্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাসিম আরও বলেন, দুর্নীতি, সামাজিক অপরাধ, ক্যাসিনো বন্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে এতে আমরা আনন্দিত, এটাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি আমরা দুঃখিত ও বিস্মিত যে কিছু রাজনৈতিক কর্মী এই দুনীতি-অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। ঢাকা শহরের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন নির্লিপ্ত ছিল। আমরা এর নিন্দা জানাই।
ফকিরাপুলে ক্যাসিনো চালানো যে ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান হয়েছে, সেই ক্লাবের গর্ভনিং বডির চেয়ারম্যান ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে সভায় উপস্থিত মেনন বলেন, ওই ক্লাবের একজন সভাপতি একজন সাধারণ সম্পাদক আছেন। আমি ২০১৬ সালে একদিনই সেখানে গিয়েছি, ফিতা কেটেছি, এটা শেষ। প্রশাসনের কেউ জানতো না সেখানে কী হয়, আর আমি জানবো কীভাবে? আমি সেখানে গিয়েছিলাম ’১৬ সালে, আর ক্যাসিনো শুরু হয়েছে ’১৭ সালে।
সভায় উপস্থিত জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা বলছি কোনো দল দেখে, কোনো মুখ দেখে যেন ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। অপরাধী যারা, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন থেকে দুর্নীতির কালো বিড়াল বিতাড়িত করতে হবে। রাজনৈতিক দল থেকে দুর্বৃত্তদের বের করে দিতে হবে।
সভায় মোহাম্মদ নাসিম জানান, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিব বর্ষ উদযাপনে ১৪ দলের পক্ষ থেকে ১৮ মার্চ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সমবেত হয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এটি হবে ১৪ দলের প্রথম কর্মসূচি। এরপর আরও কর্মসূচি থাকবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তার দীর্ঘায়ু কামনায় ১৪ দলের সভার শুরুতে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, গণতন্ত্রী পার্টির ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।