বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের একজন প্রাধ্যক্ষের বাসায় প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী (২০) ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই হল প্রাধ্যক্ষের ভাই শ্যামল বণিক (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জরুরি কল সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারে গিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
গতকাল বুধবার সকালে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে শ্যামল বণিককে নগরীর মতিহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার শ্যামল বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষ ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক বিথিকা বণিকের ভাই। পারিবারিক সূত্রে দাবিÑ শ্যামল বণিক বিয়ে করেন নি। তিনি একজন সাধু-সন্যাসী।
অপরদিকে, ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিথিকা বণিকের বঙ্গমাতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বর্তমানে ওই ছাত্রী নগরীর শাহ্ মখদুম থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইংরেজি বিভাগের সভাপতি।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অধ্যাপক বিথীকা বনিকের মেয়েকে পড়াতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ধরমপুর এলাকার যোজক টাওয়ারে যান। রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে টিউশনি শেষ হয়। ওই সময় প্রচÐ বৃষ্টি হওয়ায় অধ্যাপক বিথিকা বণিক তাকে ক্যাম্পাসে না ফিরে বরং তার বাসায় রাতে থাকার জন্য বলেন।
ফলে ওই ছাত্রী রাতে বিথিকা বণিকের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে প্রয়োজনীয় কাজে অধ্যাপক বিথীকা বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে যান। ওই সময় বাসায় ছিলেন বিথীকা বণিকের দুই মেয়ে, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী এবং তার ছোট ভাই শ্যামল বণিক। রাত ২টার দিকে অন্যরা ঘুমিয়ে পড়লে শ্যামল বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রীকে চিৎকার শুরু করলে শ্যামল বণিক তার রুম থেকে বেরিয়ে যান।
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী জাতীয় জরুরি কল সেবা ৯৯৯ এ কল করে বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাসায় যান নগরীর মতিহার থানা পুলিশ। তারা ছাত্রীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত শ্যামল বণিককে আটক করে থানা নিয়ে আসেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক বিথীকা বণিক বলেন, ‘রাতে বৃষ্টির কারণে মেয়েটা আমার বাসায় ছিল। রাত দেড়টার দিকে হলে সমস্যা হওয়ায় আমি দ্রæত হলে যায়। রাতে আমি হলে থেকে গিয়েছিলাম। সকালে বিষয়টি জানতে পারি।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই- বিয়ে করেন নি, সাধু-সন্নাসী মানুষ। তার বিরুদ্ধে কখনও বাজে কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার অভিযোগও নেই। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। যদি আমার ভাইয়ের দোষ থাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক, এটাই আমার চাওয়া।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, শ্যামল বণিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে মতিহার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, বিকেলে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রæত তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।